
ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দিতে নতুন দায়িত্ব পেয়েছিলেন চিকিৎসক আঁচল রায়। সেই দায়িত্ব বণ্টনের চিঠিও পৌঁছেছিল হাসপাতালে। কিন্তু দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই ডেঙ্গুর কাছে হার মানলেন তিনি।
রবিবার সকালে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান ৩০ বছর বয়সী এই চিকিৎসক।
আঁচল রায় রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ৪২তম বিসিএসের চিকিৎসক ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস।
স্বজনরা জানান, চার দিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন আঁচল। পঞ্চম দিনে তার প্লাটিলেটের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে গেলে অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। পরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে নেওয়া হয় আইসিইউতে।
স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, ‘আঁচলকে প্রথমে স্কয়ার হাসপাতালের এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আরও খারাপ হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।’
পেশাগত জীবনে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলেন আঁচল। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএস মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এমআরসিপি (যুক্তরাজ্য) পরীক্ষার প্রথম পর্বও সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।
আঁচলের পদায়ন ছিল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে। সম্প্রতি তাকে একই হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয় বলে জানান তার স্বামী।
বিপ্লব বলেন, ‘আঁচল এফসিপিএস মিড-টার্ম ও এমআরসিপি পার্ট ওয়ান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আমরা খুবই খুশি ছিলাম। আমার তাকে নিয়ে খুব গর্ব হতো।’
নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (নিপোর্ট) কর্মরত বিপ্লবের সঙ্গে আঁচলের পরিচয় হয়। তিন বছর প্রেমের পর তারা বিয়ে করেন। মাত্র ১৭ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল তাদের।
আঁচলের বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তবে তার দাদাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বিপ্লবের বাড়ি বরিশালে। ৪২তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন আঁচল।
এদিকে, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গুতে ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১২৮ জন।
ডেঙ্গু রোগীদের সেবা দেওয়ার দায়িত্বের চিঠি হাসপাতালে পৌঁছালেও সেই দায়িত্ব আর পালন করা হলো না আঁচল রায়ের। তার আগেই থেমে গেল এক সম্ভাবনাময় চিকিৎসকের জীবন।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত