
ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্য সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে।
নির্বাচনে এএফডি এককভাবে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ইতিহাসে এটিই হবে প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো কট্টর ডানপন্থী দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একটি রাজ্যের ক্ষমতায় বসবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী এএফডির শীর্ষ প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ডের নেতৃত্বে দলটি রাজ্যের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে স্কুলে এলজিবিটি পতাকা নিষিদ্ধ করা, নাৎসি আমলের অপরাধের পাশাপাশি জার্মান ইতিহাসের ‘ইতিবাচক’ দিকগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত আটক ও নির্বাসনের প্রস্তাব রয়েছে।
সিগমুন্ড জানিয়েছেন, অন্য কোনো দল জোটে না এলে এএফডি এককভাবেই সরকার পরিচালনা করবে। এমনকি দলটির ওপর নজরদারি করা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার বিলুপ্তিরও হুমকি দিয়েছেন তিনি।
জার্মানিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং অভিবাসন ইস্যুতে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ায় মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তায়ও ভাটা পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের নেতৃত্বাধীন সিডিইউর ওপরও। অন্যদিকে উলরিখ সিগমুন্ডের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
এএফডিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে জার্মানির মূলধারার দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে ‘ফায়ারওয়াল’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। অর্থাৎ দলটির সঙ্গে জোট বা সহযোগিতা না করার অবস্থান বজায় রেখেছে তারা। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সেই রাজনৈতিক বাধা আর কার্যকর থাকবে না—এমনটাই আশা করছে এএফডি।
এদিকে দলটির রুশপন্থী অবস্থান নিয়ে জার্মানির নিরাপত্তা মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে রাশিয়া-সমর্থিত অপতথ্য প্রচারণা আরও জোরদার হতে পারে।
স্যাক্সনি-আনহাল্ট আয়তনে ছোট হলেও শিক্ষা, পুলিশ ও আঞ্চলিক আইন প্রয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। ফলে সেখানে এএফডির সম্ভাব্য বিজয়কে শুধু আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এই ফলাফল জার্মানির জাতীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত