
ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ধাক্কাধাক্কির ব্যস্ত জীবনে একটুখানি স্বস্তি ও প্রশান্তির খোঁজ আমাদের সবারই থাকে। আধুনিকতার চাদরে ঢাকা জীবনযাত্রায় সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার এক অনন্য পথ দেখায় জাপানি জীবনদর্শন। জটিল কোনো নিয়ম-কানুন নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসকে সচেতনভাবে উপভোগ করার মধ্যেই তারা খুঁজে নিয়েছে সহজ-সরল জীবনযাপনের মূলমন্ত্র। জাপানি সংস্কৃতির এসব চর্চা শেখায়, কীভাবে প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলা যায় এবং প্রতিদিনের সাধারণ কাজের মধ্যেও প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মধ্য দিয়েই জাপানিদের গৃহস্থালি জীবনে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়। তাদের কাছে পরিচ্ছন্নতা শুধু গৃহস্থালির বাধ্যতামূলক কাজ নয়, বরং মনের অস্থিরতা দূর করার একটি আত্মিক প্রক্রিয়া। চারপাশের পরিবেশ গুছিয়ে নেওয়ার এই অভ্যাস ভেতরের জটও যেন ধীরে ধীরে খুলে দেয়। একইভাবে ঘরে প্রবেশের সময় জুতো জোড়া সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা বা ‘কুৎসু ও সোরোয়েরু’ চর্চার মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের সৌন্দর্য। বাইরের জগতের ব্যস্ততা ও বিশৃঙ্খলাকে দরজার বাইরে রেখে শান্ত নীড়ে প্রবেশের আগে এই ছোট্ট বিরতি মনকে প্রস্তুত করে।
খাবারের টেবিলে বসে প্রথম গ্রাস মুখে তোলার আগে ‘ইতাদাকিমাসু’ বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সংস্কৃতি মানুষকে প্রকৃতির প্রতি বিনয়ী হতে শেখায়। যে খাবারটি পাতে এসেছে, তা কত মানুষের শ্রম ও জীবনের বিনিময়ে সেখানে পৌঁছেছে—সেই ভাবনা খাবারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অপচয় রোধের ‘মোত্তাইনাই’ ধারণা। অপ্রয়োজনীয় অপচয় এড়িয়ে চলা, যা আছে তা যত্ন করে ব্যবহার করা এবং পুরনো জিনিসের মূল্যায়নের এই অভ্যাস অহেতুক বস্তুবাদী আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
দিনের কাজ শেষে স্নানাগারে দীর্ঘ সময় গরম পানিতে নিজেকে ডুবিয়ে রাখা বা ‘য়ুবুনে নি সুকারু’ চর্চা শুধু শারীরিক ক্লান্তিই দূর করে না, বরং সারা দিনের মানসিক চাপও অনেকটা কমিয়ে দেয়। নিজের সঙ্গে কিছুটা নির্জন সময় কাটানোর এটিও একটি দারুণ উপায়।
প্রকৃতির গতিপথের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাও জাপানিদের জীবনরীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘শুন’ ধারণার মাধ্যমে তারা বছরের প্রতিটি ঋতুর নতুন খাবার, ফলমূল ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনকে উদযাপনের সঙ্গে গ্রহণ করে।
এসব অভ্যাসকে জীবনের অংশ করে নিতে দিন শুরু করা যায় ‘হায়াওকি’ বা ভোরে ঘুম থেকে ওঠার মাধ্যমে। সকালের কোলাহলমুক্ত শান্ত সময় দিনের বাকি অংশের জন্য একটি ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করে। খুব সাধারণ এসব চর্চা জীবনের অংশ করে নিতে পারলে আধুনিক জীবনের জটিলতার মাঝেও নিজের জন্য এক টুকরো প্রশান্তির জায়গা তৈরি করা কঠিন নয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত