সর্বশেষ >>
সর্বশেষ >>
Advertise with us

ঈদে কী পরিমাণ মাংস খাওয়া উচিত

ডেস্ক রির্পোট   |   সোমবার, ২৫ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ১১৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ঈদে কী পরিমাণ মাংস খাওয়া উচিত

কুরবানির ঈদ আমাদের জীবনে আনন্দ, ত্যাগ ও সম্প্রীতির এক অনন্য উৎসব। এ উৎসবে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির অন্যতম একটি বড় মাধ্যম খাবার। আর তাদের সঙ্গে নিয়েই কুরবানির মাংস দিয়ে তৈরি নানা মুখরোচক খাবার ছাড়া ঈদের আনন্দ যেন পূর্ণতা পায় না।

তবে এ উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে যদি খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম হয়, তাহলে তা শরীরের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। ঈদের আনন্দ যেন অসুস্থতার কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।

পরিমিত ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর রান্না এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও সবজি গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ থেকে উৎসব উপভোগ করা সম্ভব। যাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করতে পারেন।

তাই সুস্থ থেকে ঈদ উদযাপন করতে হলে খাবারের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সংযম— দুটোই জরুরি। কুরবানি ঈদে সুস্থ থাকতে মাংস পরিমিত পরিমাণে খান, চর্বিযুক্ত অংশ বাদ দিন এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত রান্না এড়িয়ে চলুন। বদহজম এড়াতে প্রচুর সালাদ, শাকসবজি ও লেবু খান। দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তরা, বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও কিডনি রোগী অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাইকিয়াট্রিক কেয়ার ক্লিনিকের সিনিয়র নিউট্রিশনিস্ট ও বায়োজিন কসমেসিউটিকেলসের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ইফাত বলেছেন, কুরবানির ঈদে প্রায় প্রতিটি ঘরেই গরু কিংবা খাসির মাংস দিয়ে বিরিয়ানি, কাচ্চি, তেহারি, রেজালা, কোরমা, কালাভুনা কিংবা কাবাবের মতো সমৃদ্ধ খাবার তৈরি হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রতিটি পরিবারের সদস্যের শারীরিক অবস্থা এক নয়। শিশু, বয়স্ক, ডায়াবেটিস রোগী, হৃদরোগী কিংবা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য একই ধরনের খাবার সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। তাই ঈদের খাবারের মেন্যু তৈরিতে স্বাস্থ্যকর পরিকল্পনা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, গরু ও খাসির মাংস শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। কারণ এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, হিম আয়রন এবং ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, বি৬ ও বি৩। এসব উপাদান শরীরের পেশি গঠন, রক্ত তৈরিতে সহায়তা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

তবে একই সঙ্গে লাল মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলও থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে হৃদরোগ, স্থূলতা ও রক্তে চর্বি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই লাল মাংস ক্ষতিকর না উপকারী হবে, তা নির্ভর করে খাওয়ার পরিমাণ, রান্নার ধরন এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।

এ পুষ্টিবিদ বলেন, সুস্থ স্বাভাবিক একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, যার ওজন ৬০ থেকে ৭০ কেজির মধ্যে, তিনি দিনে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত মাংস খেতে পারেন। তবে এই পরিমাণ একবারে না খেয়ে তিন বেলায় ভাগ করে খাওয়া ভালো। একই দিনে যদি ডিম, মুরগি বা অন্যান্য প্রোটিনজাতীয় খাবার খাওয়া হয়, তাহলে মাংসের পরিমাণ ২০০ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

তিনি বলেন, আবার যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। এসব রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দিনে ৬০ থেকে ৯০ গ্রামের বেশি লাল মাংস না খাওয়াই ভালো। একই সঙ্গে সেদিন অন্য কোনো ভারি প্রোটিনজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ইফাত বলেন, আর খাবারের সঙ্গে সবজি ও সালাদ রাখার অভ্যাসও খুব গুরুত্বপূর্ণ। খাবার শুরু করার আগে সালাদ বা সবজি খেলে অতিরিক্ত ভাত বা পোলাও খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। প্রতি ৫০ গ্রাম মাংসের সঙ্গে অন্তত ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ খেলে শরীরে আঁশের ঘাটতি কমে এবং হজম ভালো হয়।

স্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান পুষ্টিবিদ। তিনি বলেন, মাংস রান্নার আগে লেবুর রস, টকদই, আদা, রসুন বা ভিনেগার দিয়ে কিছুক্ষণ মেরিনেট করে রাখলে তা তুলনামূলক সহজপাচ্য হয়। কম তেলে এবং বেশি সবজি দিয়ে রান্না করা ভালো। অতিরিক্ত ভাজাভুজি, ঘি বা মাখনের ব্যবহার কমানো উচিত।

সেই সঙ্গে বেক, গ্রিল, স্টিম বা স্ট্যু ধরনের রান্না ভাজা খাবারের তুলনায় স্বাস্থ্যকর। বিফ স্টেক, গ্রিলড টিক্কা, সবজিসহ বেকড মিট, স্যুপ বা হালিম তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে বলে জানান এ পুষ্টিবিদ। সবশেষে পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান ইফাত বলেন, ভারি খাবারের পর হজম ঠিক রাখতে বোরহানি, টকদইয়ের ঘোল, জিরাপানি, আদাপানি বা ডাবের পানি খাওয়া ভীষণ উপকারী। অন্যদিকে কোমল পানীয়, কৃত্রিম রঙ ও ফ্লেভারযুক্ত ড্রিংকস শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তাই এসব এড়িয়ে চলুন।

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Daily News of Bangladesh-এর খবর

প্রধান সম্পাদক
Cheif Editor

আমিনুল ইসলাম
Aminul Islam

সম্পাদক
Editor

সফিউর রহমান সফিক
Shafiur Rahma Shafiq

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
Managing Editor

মোহাম্মদ ফিরোজ খান
Mohammed Feroz khan

প্রকাশক
Publisher

ফারজানা আফরিন সৈথী
Farzana Afrin Soythe

ইউরোপ ব্যুরো চীফ
Europe Bureau Chief

Shah Mohammed Taifur Rahman Choton Tel.+393274953442 শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন
ঠিকানা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত