
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পরও অনেকের ত্বক হঠাৎ শুষ্ক, খসখসে বা সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। অনেকে এর কারণ হিসেবে প্রসাধনী বা আবহাওয়ার পরিবর্তনকে দায়ী করলেও দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকাও ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে দিনের বড় সময় এসি অফিসে কাজ করা, এসি গাড়িতে চলাচল এবং রাতে এসি ঘরে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে এ সমস্যা বাড়তে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ত্বকে একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক স্তর রয়েছে। কোষ, প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতাকারী উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত এই স্তর ত্বকের ভেতরের পানি ধরে রাখতে এবং বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় শুষ্ক পরিবেশে থাকলে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হতে পারে। বিজ্ঞানের ভাষায় এ প্রক্রিয়াকে ‘ট্রান্সেপিডার্মাল ওয়াটার লস’ বলা হয়। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে গিয়ে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে উঠতে পারে।
তবে ত্বকের শুষ্কতা ও পানিশূন্যতা এক বিষয় নয়। ত্বকে প্রাকৃতিক তেল কম থাকাকে সাধারণত শুষ্ক ত্বক বলা হয়, যা অনেকের স্থায়ী ত্বকের ধরন। অন্যদিকে ত্বকে পানির ঘাটতিকে বলা হয় পানিশূন্যতা, যা সাময়িকভাবে হতে পারে। তাই তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরাও দীর্ঘ সময় এসির শুষ্ক বাতাসে থাকার কারণে পানিশূন্য ত্বকের সমস্যায় পড়তে পারেন। ফলে বাইরে থেকে মুখ তৈলাক্ত দেখালেও ত্বকের ভেতরে টানটান, অস্বস্তিকর বা প্রাণহীন অনুভূতি হতে পারে।
যাদের ত্বক আগে থেকেই সংবেদনশীল বা একজিমাপ্রবণ, কিংবা ব্রণ নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী ওষুধ বা মলম ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে শুষ্ক পরিবেশে ত্বকের অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে। মুখ ধোয়ার পর ত্বক অস্বাভাবিক টানটান লাগা, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া, প্রসাধনী ব্যবহারের পর জ্বালাপোড়া এবং ঠোঁট ঘন ঘন ফেটে যাওয়া—এসব ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।
এসি ব্যবহারের কারণে ত্বকের শুষ্কতা কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। ত্বক পরিষ্কারের জন্য কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত, যাতে ত্বকের স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা অতিরিক্ত কমে না যায়। মুখ ধোয়ার পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ঠোঁটের ত্বক তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করাও উপকারী।
এ ছাড়া এসি ঘরে থাকলেও দিনের বেলায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। জানালার কাচ দিয়ে আসা অতিবেগুনি রশ্মি থেকেও ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশে প্রয়োজন হলে ঘরের আর্দ্রতা বাড়ানোর ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
আধুনিক জীবনে এসি এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, কোমল ক্লিনজার বেছে নেওয়া এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে এসির শুষ্ক পরিবেশজনিত অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত