সর্বশেষ >>
সর্বশেষ >>
Advertise with us

কানাডার পণ্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, তীব্র হচ্ছে বাণিজ্যযুদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ২৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কানাডার পণ্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, তীব্র হচ্ছে বাণিজ্যযুদ্ধ

কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধ এবার আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। কানাডার মোটরসাইকেল, অ্যালকোহল ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করে কানাডা। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানাডীয় পণ্যের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে।

এর আগে কয়েক দফা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত মাসে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। এর জবাবেই পাল্টা ব্যবস্থা নেয় অটোয়া।

যেসব পণ্যে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় কানাডার বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা ও রামসহ অধিকাংশ অ্যালকোহলজাত পণ্য রয়েছে। পাশাপাশি হুই প্রোটিন, বিশেষ ধরনের গুড় ও নন-অ্যালকোহলিক বিয়ারও তালিকায় রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কানাডীয় বিভিন্ন ধরনের পনির, কাগজ, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ, আসবাবপত্র ও লাইটিং সামগ্রীর ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডীয় গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকিও বহাল রয়েছে।

পাশাপাশি মার্কিন সরকারি কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা জিএসএর ক্রয় প্রক্রিয়া থেকে কানাডীয় পণ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এর মাধ্যমে কানাডাকে নীতি পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ওয়াশিংটনের।

কার্নির পাল্টা বার্তা

বাণিজ্য সংঘাতের মধ্যে মার্কিন বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই কানাডার রয়েছে। পরিবর্তনের জন্য কিছু মূল্য দিতে হলেও তা হাত গুটিয়ে বসে থাকার চেয়ে কম হবে।

কানাডার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক ল্যব্লাঁও মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কানাডার শ্রমিক, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।

এদিকে পরিস্থিতি নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ও ডমিনিক ল্যব্লাঁর মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

উত্তেজনা ছড়াচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও

বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়ও। জাপানি বিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাপ্পোরো তাদের নন-অ্যালকোহলিক পানীয় উৎপাদন কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৬৮ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সংঘাত আরও বাড়লে কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিশিগান ও ওহাইওর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যকে লক্ষ্য করে ইস্পাত, আসবাবপত্র, পোশাক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা।

‘কানাডিয়ান এগ্রি-ফুড ট্রেড অ্যালায়েন্স’-এর নির্বাহী পরিচালক মাইকেল হার্ভি বলেন, বাণিজ্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। তবে প্রধানমন্ত্রী কার্নির কৌশলী অবস্থানও তারা বুঝতে পারছেন।

ট্রাম্পের হুমকি অব্যাহত

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানাডার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে তিনি হুমকি দিয়েছেন, কানাডীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপন না করলে দেশটিতে আর কোনো বিমান বিক্রি করতে পারবে না।

এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি একটি ছবিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে ‘গভর্নর’ বলে উপহাস করেছেন ট্রাম্প। এতে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর তার পুরোনো মন্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এ ছাড়া এক নির্বাহী আদেশে সই করে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তের ঐতিহাসিক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার বিতর্কিত ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, কানাডার ৬২ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছেন। অন্যদিকে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী শুল্কনীতিকে সমর্থন করছেন মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও
Advertise with us

ফলো করুন Daily News of Bangladesh-এর খবর

প্রধান সম্পাদক
Cheif Editor

আমিনুল ইসলাম
Aminul Islam

সম্পাদক ও প্রকাশক
Editor & Publisher

সফিউর রহমান সফিক
Shafiur Rahma Shafiq

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
Managing Editor

মোহাম্মদ ফিরোজ খান
Mohammed Feroz khan

ইউরোপ ব্যুরো চীফ
Europe Bureau Chief

Shah Mohammed Taifur Rahman Choton Tel.+393274953442 শাহ মোহাম্মদ তাইফুর রহমান ছোটন
ঠিকানা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত