
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের চার দিন পরও ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান। এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।
বুধবার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, উদ্ধার অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের উদ্ধারের আশা এখনো ছাড়ছেন না উদ্ধারকারীরা।
ভূমিকম্পে ৯ হাজার ৫৫০টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পেরেইরা ও কালিতে উদ্ধারকারীরা দিন-রাত কাজ করছেন। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ক্রেনের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিশেষ সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্ভাব্য জীবনের সংকেত শুনতে নির্দিষ্ট সময় পরপর পুরো এলাকা নীরব রাখা হচ্ছে।
পেরেইরায় ধসে পড়া একটি বেকারির ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা রাস্তার বিক্রেতা পাবলো লোয়াইজাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। বিশেষ সরঞ্জামে তাঁর অবস্থানের সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পর স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। উদ্ধারকারীদের ডাকে ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
কালির তোরেস দেল লিমোনা আবাসিক কমপ্লেক্সেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাতে উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছেন।
এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল, স্কুল, বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে।
মাত্র তিন দিন আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া দে লা এসপ্রিয়েয়ার জন্য এই দুর্যোগ বড় ধরনের প্রশাসনিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া নতুন সরকারের রাষ্ট্রীয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটই এখন জরুরি উদ্ধার তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ নাগরিকরাও। খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাচ্ছেন। রক্তদান কেন্দ্রগুলোর বাইরেও দেখা গেছে দীর্ঘ সারি।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত