
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে সরাসরি সামরিক হামলা না চালানোর ঘোষণা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে ওয়াশিংটন। এতে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনটি সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলো হলো—ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুনরায় শুরু এবং সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান।
নৌ অবরোধ থেকে স্থল অভিযান
প্রথম বিকল্প হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নৌ অবরোধ বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। দ্বিতীয় বিকল্প হলো, ইরানের ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুনরায় শুরু করা।
তৃতীয় বিকল্পটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এর আওতায় সীমিত স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের চেষ্টাও থাকতে পারে। দ্বীপটি ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। ফলে এটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমছে, কৌশল বদলাচ্ছে ইরানও
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়ালেও প্রতিটি বিকল্পের সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে দেশটির অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের হামলা মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন ও অভিযোজন এনেছে ইরানও। ফলে নতুন করে হামলা শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা প্রতিরোধ ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হতে পারে।
বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা কিংবা স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, এ ধরনের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুলসংখ্যক সেনা হতাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
একই সঙ্গে সংঘাতের বিস্তার পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আঞ্চলিক সংঘাত বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সামনে নৌ অবরোধ, বিমান হামলা ও সীমিত স্থল অভিযানের মতো বিকল্প থাকলেও প্রতিটি পদক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে।
সূত্র: আল জাজিরা

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত