
জেলা প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলার খড়মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা তথ্য অফিস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবস্থাপনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। GPMS কর্মপরিকল্পনার আওতায় অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬-এর দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, খড়মপুর শাহপীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেওয়ান সাজিদুল হক, খড়মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা আক্তার এবং সিনিয়র শিক্ষক মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও মোঃ শাহ আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, দেশের হতদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪টি উপজেলা ও এলাকায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগীকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী সদস্যদের এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আসাদনগরে ইতোমধ্যে ৭৭৬ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নে কার্ডের জন্য খানা জরিপ কার্যক্রম চলছে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় এনে বীজ, সার, কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও অন্যান্য কৃষি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৮৫১ জন কৃষক-কৃষাণীকে কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শেষে জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাসের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নারী সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত