
ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৮০টি নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। তবে দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে এসব লোকোমোটিভ দেশে পৌঁছাতে আরও দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব এসব লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে রেলওয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
১৮ বছরে ব্যয় ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা, তবু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি
রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিগত সরকার ১৮ বছরে রেল খাতে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও এ খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি।
তার ভাষ্য, অপচয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও লুটপাটের কারণে রেলওয়ের যে অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেলওয়ে পিছিয়ে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও রেলসম্পদ ধ্বংস হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৮ বছরে রেলওয়ে বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাব ছিল। সময়ের সঙ্গে রেলসেবার মানেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। বর্তমান সরকার এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। তবে রেলওয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং যাত্রীদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগবে। রেলসেবার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সক্রিয় রয়েছেন।
উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ উন্নয়নে গুরুত্ব
রেল যোগাযোগকে আরও যাত্রীবান্ধব করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে রেলওয়ে বিভাগকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে সকালে ঢাকায় এসে রাতে ফিরে যাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং রেলসেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে রেলওয়েকে আরও জনবান্ধব করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামসহ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত