
ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্য কর্মকর্তাকে উপযুক্ত স্থানে পদায়ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য কাউকে হয়রানি করা নয়; বরং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া এবং বদলি-পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। মানবিক কারণে কারও বিশেষ প্রয়োজন থাকলে আবেদন করার সুযোগও থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকেরা।
লটারিতে বদলি-পদায়ন ১,৪৩০ কর্মকর্তার
জাকারিয়া তাহের জানান, এর আগে লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের মোট ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, আগস্টে আরও ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী এবং গত ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য একটাই—বদলি বাণিজ্য বন্ধ করা, সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। যোগ্যতা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য জায়গায় বসানোই আমাদের লক্ষ্য।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, রূপপুর প্রকল্প নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের যে বদনাম হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্যে অধিদপ্তরে সংস্কার কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কার্যক্রম নিয়েও কাজ করা হবে।
সরকারি জমির হিসাব রাখতে হচ্ছে ল্যান্ড ব্যাংক
সরকারি জমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ল্যান্ড ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত মন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই যতটা সম্ভব ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করার চেষ্টা চলছে।
কোন প্রতিষ্ঠানের কত জমি রয়েছে, কোন জমি দখলে আছে এবং কোন জমি বেদখল—এসব তথ্য চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অবৈধ দখলে থাকা সরকারি জমি উদ্ধারের কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জমি-জমা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যায়। সঠিক তথ্য সংরক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো হবে।
আবাসন বরাদ্দে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু এ সপ্তাহেই
আবাসন বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও অভিযোগের অবসান ঘটাতে বরাদ্দপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাকারিয়া তাহের।
তিনি বলেন, কে আবাসন পাচ্ছেন আর কে পাচ্ছেন না—এ নিয়ে আগে নানা প্রশ্ন ছিল। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বরাদ্দপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।
নতুন সচিবালয় নির্মাণে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
সচিবালয় পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে প্রায় চার মাস আগে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে বর্তমান সচিবালয়ের এক নম্বর ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
পরে মন্ত্রিসভায় আলোচনা চলাকালে সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকাকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর এ বিষয়ে সমীক্ষা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।
মন্ত্রী জানান, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উঠতে পারে। সেখানে নতুন সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলে দ্রুত কাজ শুরুর জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
নতুন সচিবালয়ের সম্ভাব্য আয়তন ৩০-৩২ লাখ বর্গফুট
বর্তমান সচিবালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। কয়েকটি মন্ত্রণালয় সচিবালয়ের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পার্কিংয়ের জায়গাও অপ্রতুল। অধিকাংশ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত হওয়ায় সেগুলো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান স্থানে থাকলেও ভবনগুলো নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নতুন সচিবালয়ের আয়তন সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এখনো ধারণাগত পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ৩০ লাখ থেকে ৩২ লাখ বর্গফুট জায়গার কথা বিবেচনায় রয়েছে।
লটারিতে পদায়নে বেড়েছে কাজের গতি: প্রতিমন্ত্রী
গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, এর আগে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি এসেছে।
আলোচনা পর্ব শেষে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের ও প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বক্স থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়ন কার্যক্রম শুরু করেন।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত