
ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ড্রোন হামলাগুলোর একটি ছিল সোমবারের হামলা। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হামলায় ২৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনেও ড্রোন আঘাত হানে। এতে ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। ভবনের ওপরের তলা থেকে মই দিয়ে আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়।
হামলার সময় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। আকাশে দেখা যায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী। দিনের শেষ পর্যন্ত শহরজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
জেটচালিত ড্রোন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে দ্রুতগতির ও বেশি উচ্চতায় উড়তে সক্ষম জেটচালিত ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নতুন ধরনের এসব ড্রোন মোকাবিলায় দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
রাতে দেওয়া ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, সোমবার ইউক্রেনে নিক্ষেপ করা ১২০টি ড্রোনের মধ্যে ৯০টিই ছিল জেটচালিত। এর ৫৭ শতাংশ ভূপাতিত বা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কি জানান, নতুন ধরনের ড্রোন প্রতিহত করার ব্যবস্থা পরীক্ষাধীন রয়েছে। কিছু যুদ্ধ ইউনিট ইতোমধ্যে এসব ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। তবে কার্যকারিতা ও ব্যাপক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
কিয়েভে হামলায় একটি ওষুধ কোম্পানি, কয়েকটি পেট্রল স্টেশন ও একটি চিকিৎসাকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দিনিপ্রোতে ব্যবসায়িক কেন্দ্রে হামলা, নিহত ৩
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতেও রুশ ড্রোন হামলায় একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্রে তিনজন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৯ জন।
দিনিপ্রোর আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানজা জানান, ব্যবসায়িক কেন্দ্রটি আবাসিক ভবন, একটি পার্ক, গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন কার্যালয়ে ঘেরা এলাকায় অবস্থিত। হামলার সময় সেখানে শত শত মানুষ ছিলেন।
এ ছাড়া দিনিপ্রোর দক্ষিণ-পূর্বে সাইনেলনিকোভোতে একটি লজিস্টিক কার্যালয়ে হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। জাপোরিঝঝিয়ায় অবকাঠামোয় হামলায় ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ।
রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া গুদাম, বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও টেলিযোগাযোগ স্থাপনাসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক স্থাপনাতেও হামলা বাড়িয়েছে।
রাশিয়ার নতুন সেনা নিয়োগের দাবি জেলেনস্কির
জেলেনস্কি আরও দাবি করেছেন, ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এইচইউআরের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া নতুন করে সেনা নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে রুশ বাহিনীতে নতুন সদস্য নিয়োগের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার দাবি, ২০২৪ সালে কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অভিযানের সময় রাশিয়ায় পাঠানো উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৮ হাজার সেনা এখনও সেখানে রয়েছে। আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন করে সেনা সমাবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণাকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে। জেলেনস্কি জানান, সোমবার ইউক্রেন রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের কয়েকটি তেল স্থাপনা ও দুটি প্রতিরক্ষা কারখানায় হামলা চালিয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত