
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইন্দোনেশিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দের আইন দ্রুত পাসের দাবিতে রাজধানী জাকার্তায় সংসদ ভবনের সামনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে পার্লামেন্টের প্রধান ফটকের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। গত বছর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেওয়ার এক বছর পূর্তিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ২০২৫ সালের ওই সহিংসতায় প্রায় ১০ জন নিহত এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
দিনের বেশির ভাগ সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও রাতের দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় পুলিশের একটি পোস্ট ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আহত কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ ঘিরে জাকার্তায় ১৮ হাজার ৫০০ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমান্তো জানান, ‘উসকানিদাতা’ সন্দেহে আগেই ৬৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে পার্লামেন্ট ভবনের প্রধান ফটকও বন্ধ রাখা হয়।
দুর্নীতির সম্পদ জব্দের আইন পাসের দাবি
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রের জব্দ করার ক্ষমতা নিশ্চিত করতে একটি বিল দ্রুত পাস করা। বিলটি ২০০৮ সালে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হলেও এখনো আইনে পরিণত হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, আইনটি পাস হলে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্র সহজে জব্দ করতে পারবে এবং দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। সমাবেশে কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের দাবিও জানান।
বিক্ষোভের মধ্যেই ‘ইউনাইটেড পাতি কমিউনিটি অ্যালায়েন্স’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েকজন আইনপ্রণেতা বৈঠক করেন। সংগঠনটির নেতা সোপ্রিয়ানো জানান, আইনপ্রণেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলটি পাস না হলে তারা পদত্যাগ করবেন। তবে এ বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ স্কুলের খাবার কর্মসূচিতেও
বিক্ষোভে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচি নিয়েও আপত্তি জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে বারবার খাবারে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটছে। এটি বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। তাই কর্মসূচিটি বাতিলের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি খাবারের দাম কমানো এবং সমাজে ‘সামরিকীকরণ’ বন্ধের দাবিও তোলেন।
জাকার্তার বাইরে যোগাকার্তা ও মাকাসারসহ দেশের আরও কয়েকটি শহরেও বিক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের মিছিল হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি রয়টার্সকে বলেন, গত বছরের সহিংসতার স্মরণে ২৭ আগস্টকে বিক্ষোভের দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে গত বছরের মতো সহিংসতা চান না তারা। শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের কাছে নিজেদের দাবি তুলে ধরতেই রাস্তায় নেমেছেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান নিরাপত্তামন্ত্রী জামারি চানিয়াগো বলেন, বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বিক্ষোভ দমনের জন্য নয়; বরং বিক্ষোভকারীরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত