
সফিউর রহমান সফিক | বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দূর্নীতি দমন কমিশনে টানা তিন মাস কমিশনশূন্য থাকার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)এ নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কমিশনার নিয়োগের জন্য সুপারিশ দিতে আইন অনুযায়ী যে বাছাই (সার্চ) কমিটি গঠন করতে হয়, সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারক মনোনয়নের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এছাড়া চিঠি পাঠানো হয়েছে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি)। দুদকের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
গত ৩ মার্চ দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি নীতি শাখা থেকে সম্প্রতি পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আরিফুল হক মৃদুল স্বাক্ষরিত চিঠিটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লিখিত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাছাই কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন এবং হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারককে মনোনয়ন প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এই সপ্তাহের মধ্যেই সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ কারণে দীর্ঘদিনের শূন্যতা কাটিয়ে দ্রুতই নতুন কমিশন গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি দুদক আইন সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ কারণে কমিশন গঠন বিলম্বিত হতে পারে–এমন ধারণা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ছিল। তবে সার্চ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ায় এখন নতুন কমিশন গঠনের পথ পরিষ্কার হয়ে গেছে। এতে আর কোন জটিলতা নেই।
তবে দুদক সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে কমিশন গঠন করতে বিএনপি সরকার সম্মত না হওয়ার কারণে অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়া পর্যন্ত সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এসব কারণেই বেশ বড় একটা সময় সংস্থাটিকে কমিশনশূন্য থাকতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭ (১) অনুযায়ী কমিশনার নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করতে হয়। ওই কমিটির সভাপতি থাকেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক এবং সদস্য হিসেবে থাকেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক। এ দুই সদস্যের মনোনয়ন দেন প্রধান বিচারপতি।
আইন অনুযায়ী, বাছাই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে পূর্ববর্তী মন্ত্রী পরিষদ সচিব না পাওয়া গেলে তার পূর্ববর্তী মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এই দায়িত্ব পালন করতে হয়। যদি এই ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটে তবে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।
আরো জানা যায়, বিচারক মনোনয়নের পরই বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। এরপর কমিশনার পদে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিবে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত