
ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ি, ট্রাক ও গাড়ির যন্ত্রাংশে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ি, ট্রাক ও যন্ত্রাংশে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। গত সপ্তাহে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই তিনি এ হুমকি দেন।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটন ও অটোয়া একে অপরকে দায়ী করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ট্রাম্পের এই হুমকি অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কানাডার গাড়িশিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। তবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ফিরলে কানাডাও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে কানাডা বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে যায়। এর আগে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
আলোচনার শুরুতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যায়ে নতুন কিছু শর্ত নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। কানাডার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শর্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের প্রস্তাব কানাডাই দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সিএনবিসিকে বলেন, কানাডা আরও বেশি সুবিধা চেয়েছিল।
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর কানাডার গাড়িশিল্পকে লক্ষ্য করে নতুন শুল্কের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে কার্নি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যে যত শুল্ক আরোপ করবে, কানাডাও মার্কিন পণ্যে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।
কার্নি বলেন, নতুন মার্কিন শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত কানাডীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্য আরও বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে কুইবেকের একটি জাহাজ কারখানায় কানাডীয় কোস্ট গার্ডের জন্য ছয়টি আইসব্রেকার নির্মাণে ১১ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছেন কার্নি।
অন্যদিকে কানাডার গাড়িশিল্পের প্রধান কেন্দ্র অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড ট্রাম্পের হুমকির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কানাডার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জন্য আরও বেশি দাম নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
ফোর্ডের বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তাঁকে কটাক্ষ করেন এবং কানাডাকে আরও কঠোর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেন।
কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ আসে কানাডা থেকে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, নতুন মার্কিন শুল্ক এবং আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া কানাডার পাল্টা শুল্ক উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে এই বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব পড়তে পারে মেক্সিকোর ওপরও। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান ইউএসএমসিএ বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তিটির মেয়াদ আরও ১৬ বছর বাড়াতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তিটি নবায়ন করা হবে না। ইউএসএমসিএর আওতায় উত্তর আমেরিকায় প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়লে ইউএসএমসিএ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। এতে কানাডা মন্দার মুখে পড়তে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও কমে যেতে পারে।
সূত্র: বিবিসি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত