
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে তেহরানের পক্ষে আর দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের ডালাসে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ট্রাম্প।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা এখন ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকারে নেই বলে জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে আলোচনায় ফিরতে চাচ্ছে না। তবে প্রয়োজন হলে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আমরা এখন সেটি নিয়ে ভাবছি না।’
ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, এর বাইরেও আরও বিভিন্ন বিষয় থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক শক্তির বাইরেও আরও অনেক কিছু আছে।’ অর্থাৎ ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব, সামরিক তৎপরতা, অর্থনীতি ও অন্যান্য কৌশলগত বিষয়ও আলোচনার টেবিলে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের পারমাণবিক শক্তি থাকবে, যা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ।’ তবে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলায় ইরানের প্রায় নয়টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। সামনে এ ধরনের হামলা আরও বাড়ানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে ইকুয়েডর সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সংঘাতের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো কোনো বাহ্যিক সামরিক বা কৌশলগত সহযোগিতা ইরান পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি।
রুবিও বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার কারণে ইরানকে প্রতিনিয়ত চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। তার দাবি, গত রাতেও তেহরান আরও পাঁচটি ট্যাঙ্কার হারিয়েছে। এর মধ্যে চারটি ক্ষতিগ্রস্ত এবং একটি সাগরে ডুবে গেছে।
ইরানের ওপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও অবরোধের কৌশল অব্যাহত থাকবে বলেও জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত