
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘মিউজিশিয়ানদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে তারাও রুখে দাঁড়াবেন’—সরকারের প্রতি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর।
তিনি বলেছেন, দেশে একের পর এক কনসার্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নানা অনিশ্চয়তায় অনেক শিল্পী দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। অথচ স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মিউজিশিয়ানদের জন্য পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার কমলাপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ মিউজিশিয়ানস ক্লাবের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন আসিফ আকবর।
নিবন্ধন, আপ্যায়ন, আড্ডা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় শিল্পীদের মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি মাসুদ রানা। সঞ্চালনায় ছিলেন কণ্ঠশিল্পী মিতুয়া হেমা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য গীতিকার ও সঙ্গীত গবেষক শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী। এছাড়া ফুয়াদ নাসের বাবু, মকসুদ জামিল মিন্টু, পিলু খান, লাবু রহমান, সাঈদ হাসান টিপুসহ দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে আসিফ আকবর বলেন, ‘মিউজিশিয়ানরা দেশের সবচেয়ে অবহেলিত একটি শ্রেণি।’ তাদের বাড়ি ভাড়া দিতে অনেকে অনীহা দেখান, এমনকি ব্যাংক থেকেও ঋণ পেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। প্রধানমন্ত্রীর জনকল্যাণমূলক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের শুরুটা মিউজিশিয়ানদের দিয়েই হওয়া উচিত ছিল।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি চায় দেশের সন্তানেরা গান, নাচ ও আবৃত্তি করবে, তাহলে আবার কেন গানবাজনা বন্ধের ডাক আসছে? সংবিধানের কোন ধারায় সঙ্গীত নিষিদ্ধের বিধান রয়েছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আসিফ আকবর আরও বলেন, সমতল ভূমির বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো সুযোগ নেই। ধর্ম ও সঙ্গীতকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার যদি সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নাচ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, তাহলে শিল্পীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হবে।
তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিয়মিত কনসার্ট ও সঙ্গীতানুষ্ঠান হচ্ছে। তাহলে বাংলাদেশে কেন হবে না? একের পর এক কনসার্ট বন্ধের প্রসঙ্গে প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কার ভয়ে গান বন্ধ করা হচ্ছে?’
বক্তব্যের শেষদিকে আসিফ আকবর বলেন, সরকার যদি মিউজিশিয়ানদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস না দেয় এবং তারা পেশাহীন হয়ে পড়েন, তাহলে একসময় তারাও রুখে দাঁড়াবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যে দেশে সুর-সঙ্গীত নেই, সেখানে মাদকের বিস্তার ঘটবেই।’
প্রধান অতিথি শহীদ মাহমুদ জঙ্গী বলেন, ধর্মের নামে যারা সঙ্গীত বন্ধের চেষ্টা করছে, তাদের ধর্মীয় যুক্তিতেই জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, সামরিক শাসনের মতো সঙ্গীতচর্চাকে মাঠ-ময়দান থেকে ঘরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।
বিশেষ অতিথি ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সবসময় শিল্পীদের পাশে রয়েছে। নিজেকে ‘মিউজিশিয়ানস পরিবারের অংশ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশেও তারা কনসার্ট করেছেন। ভবিষ্যতেও শিল্পীদের স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত