
জেলা প্রতিনিধি | বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নিখোঁজের চার দিন পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে রত্না দাস (৩০) নামে এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ঘরের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পর রত্নাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহত রত্না দাস খাগালিয়া গ্রামের কুড়ের হাটির সুশীল দাসের স্ত্রী। তিনি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের মধ্যপাড়ার মহল্লাল দাসের মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে হঠাৎ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রত্না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরে রবিবার (১৮ অক্টোবর) নাসিরনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর স্বামী সুশীল দাস।
চার দিন পর বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনেরা মরদেহটি রত্না দাসের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের দেবর বলরাম দাসের অভিযোগ, রত্না ঘরে একা ঘুমাতেন। দুর্বৃত্তরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। এরপর ঘরে থাকা রশি ও পাথর দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী সুশীল দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
নিহতের মামা বিনোদ দাস বলেন, ‘আমার ভাগনিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়া জানান, পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি পুলিশকে অবহিত করেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত চলছে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত