
সফিউর রহমান সফিক | বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অনুসন্ধান প্রতিবেদন -২
এখনো আছেন বহাল তবিয়তে
অনিয়ম দুর্নীতির শত অভিযোগ থাকার পরও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন দুর্নীতির বরপুত্র কানুনগো বিলিয়ন বিপু। ভূমি প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাঠপর্যায়ের পদ হলো ‘কানুনগো’। এই পদের দায়িত্বকে পুঁজি করে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কানুনগো বিলিয়ন বিপু’র বিরুদ্ধে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ (ভূমি অধিগ্রহণ) শাখায় কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে । নারায়ণগঞ্জ এল এ শাখায় থাকাকালীন ঘুষ দুর্নীতির সিন্ডিকেট করে অর্থ আত্মসাৎসহ নানান অনিয়ম অপকর্মের মাধ্যমে ধরাকে সরা করে এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখায় বিলিয়ন বিপু ক্ষমতার অপব্যবহারের চাবিকাঠি হাতে নেন।
এর সাথে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় দেওয়ার নামে তিনি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে সাধারণ ভূমি মালিকদের হয়রানি করে ফাইল আটকে রাখা।দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুয়া ভুমি মালিক সাজিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া।ক্ষতিপূরণের চেকের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে বিপুল অঙ্কের কমিশন (ঘুষ) আদায়। রাজনৈতিক চত্রছায়া ও প্রভাব বিস্তার , নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ও সমালোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই বিলিয়ন বিপু। এই রাজনৈতিক প্রভাবকে অপকর্মের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব রাজত্ব কায়েম করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ এল এ শাখায় ।
শুধু তাই নয় শামীম ওসমানের নাম ভাঙিয়ে এল এ শাখার অনেক বিতর্কিত ফাইল তিনি একক সিদ্ধান্তে পাশ করিয়েছেন তৎকালীন ডিসি, এডিসির মাধ্যমে এবং কেউ তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে রাজনৈতিক হুমকি-ধমকির মুখোমুখি হতে হতো অনুসন্ধানে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে বিলিয়ন বিপুর বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগে মুন্সিগঞ্জে শাস্তিমূলক বদলি, নারায়ণগঞ্জ এল এ শাখায় থাকাকালীন তার চরম অনিয়ম, ঘুষ-দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে একের পর এক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখায় শাস্তিমূলক বা জরুরি বদলি করা হয়। বর্তমানে তিনি মুন্সিগঞ্জে কর্মরত আছেন।
এদিকে অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে আরও জানা গেছেকানুনগো বিলিয়ন দিপুর কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। কয়েক শত কোটি টাকার এই অর্জিত অবৈধ সম্পদ দেশে ও বিদেশে ছেলে-মেয়ে ,স্ত্রীও আত্মীয় স্বজনের নামে। সরকারি বেতনভুক্ত একজন সামান্য কানুনগো হলেও বিলিয়ন বিপু’র জীবনযাত্রা এবং অর্জিত সম্পদের পরিমাণ রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। প্রাপ্ত অভিযোগ ও অনুসন্ধান অনুযায়ী তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের একটি খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো : আবাসিক ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ , রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক ভবন। এছাড়া নামে-বেনামে শত বিঘা মূলবান কৃষিজমি ও প্লট কিনেছেন।বিলাসবহুল যানবাহন নিজের ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য একাধিক নামী ব্র্যান্ডের দামি মডেলের গাড়ি । দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের স্ত্রীর এবং সন্তান ও আত্মীয় স্বজনের নামে কোটি কোটি টাকার এফডিআর (FDR) ও সঞ্চয়পত্র। এছাড়া ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বিভিন্ন ব্যবসায় নামে এবং বেনামে কোটি কোটি টাকার পুঁজি খাটানো হয়েছে ।
বিদেশে অর্থ পাচার ও পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অবস্থান, তার সন্তানরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, আয়ের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সেখানেও সম্পদ গড়েছেন তিনি।
বর্তমান তৎপরত নারায়ণগঞ্জে এল এ শাখায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা । এর সাথে তদবির বাণিজ্য । এদিকে জানা গেছে মুন্সিগঞ্জে বদলি হলেও নারায়ণগঞ্জের এল এ শাখার বিপুল পরিমাণ “অবৈধ উপার্জনের উৎস” হাতছাড়া করতে নারাজ এই কর্মকর্তা। ফলে পুনরায় নারায়ণগঞ্জ এল এ শাখায় বদলি হয়ে আসার জন্য বর্তমানে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ (কোটি টাকার মিশন) নিয়ে মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে, রাজনৈতিক তদবিরকারক ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে লবিং ও তদবির শুরু করেছেন। এই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলে তিনি তার পূর্বের সিন্ডিকেটকে আবারো সচল করার পাঁয়তারা করছেন। অন্যদিকে আরো জানা গেছে কানুনগো বিলিয়ন বিপুর দুর্নীতি নানান অনিয়ম অপকর্মের তদন্ত শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত