
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সকালটা কাটছে বেশ চাঙা ভাবেই। কাজের চাপ থাকলেও ক্লান্তি নেই। কিন্তু দুপুরের খাবার খাওয়ার পরই যেন পরিস্থিতি বদলে যায়। চোখে ঘুমঘুম ভাব, শরীরে আলস্য, কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে বিকেলটা হয়ে ওঠে বেশ কঠিন। অনেকেই তখন চা-কফির ওপর ভরসা করেন।
তবে প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পর এমন হলে শুধু কম ঘুম বা ব্যস্ততাকে দায়ী করা ঠিক নয়। খাবারের ধরন ও পরিমাণ, পানি পান এবং রাতের ঘুমের মানও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
খেজুরের সঙ্গে ঘি
হঠাৎ দুর্বল বা ক্লান্ত লাগলে অনেকে খেজুরের সঙ্গে সামান্য ঘি খান। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে। আর ঘিতে থাকা চর্বি তুলনামূলক ধীরে শক্তি ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে।
তবে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকলে নিয়মিত খেজুর ও ঘি খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
জাফরান দুধ কতটা উপকারী?
ক্লান্তি কাটাতে অনেকেই জাফরান মেশানো দুধ পান করেন। অল্প পরিমাণ জাফরান পানিতে ভিজিয়ে দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। তবে এটিকে ক্লান্তি দূর করার নিশ্চিত উপায় হিসেবে না দেখে খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
ক্লান্তি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও ভালো ঘুম।
রাতের খাবারে আনুন শৃঙ্খলা
দুপুরের পরের ঝিমুনির সঙ্গে রাতের ঘুমেরও সম্পর্ক থাকতে পারে। ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে ভারী খাবার খেলে অনেকের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ফলে পরদিন দেখা দিতে পারে ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব।
তাই সম্ভব হলে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাতের খাবার শেষ করুন। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাসও ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক।
দুপুরের খাবার হোক পরিমিত
দুপুরে একসঙ্গে বেশি খাবার খেলে খাবারের পর ঝিমুনির প্রবণতা বাড়তে পারে। তাই পরিমাণের পাশাপাশি খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য রাখাও জরুরি। নিয়মিত খাবার ও স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার দিনের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পানিশূন্যতায় তৃষ্ণা, মাথা ঘোরা ও ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হলে সতর্ক
নিয়মিত অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঝিমুনির কারণ শুধু খাবার হজমের সমস্যা নয়। কম ঘুম, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা ঘুমের কিছু সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।
তাই কয়েক সপ্তাহ ধরে একই সমস্যা চলতে থাকলে বা ক্লান্তির কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে শুধু চা-কফির ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে কারণ নির্ণয়ে রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন চিকিৎসক।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত