
ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর লিটারপ্রতি প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট করছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। শুক্রবার দেশটির সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কয়েক দিন পরই এ সিদ্ধান্ত এলো।
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোট ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরোর এই করছাড়ের অংশ হিসেবে জ্বালানি কর লিটারপ্রতি ১৪ ইউরো সেন্ট কমানো হবে। ভ্যাটের প্রভাবসহ হিসাব করলে এতে লিটারপ্রতি প্রায় ১৭ ইউরো সেন্টের মূল্যস্বস্তি মিলবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ সুবিধা কার্যকর হবে এবং বছরের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এ ছাড়া লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামের মতো মডেল অনুসরণ করে জ্বালানি তেলের ওপর মূল্যসীমা (ফুয়েল প্রাইস ক্যাপ) আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে তেলশিল্পের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে সরকার। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চ্যান্সেলর মের্জ বলেন, “যারা প্রতিদিন গাড়ির ওপর নির্ভর করে চলেন, তারা এখন চরম চাপের মধ্যে আছেন। আমরা সংকটের সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছি এবং নাগরিকদের পাশে দাঁড়াচ্ছি।”
করছাড় কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারগুলোর পাশাপাশি মের্জের রক্ষণশীল সিডিইউ এবং জোটসঙ্গী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর সমঝোতা হয়েছে। ব্যয়ের একটি অংশ ফেডারেল সরকার এবং বাকি অংশ রাজ্য সরকারগুলো বহন করবে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়ায় জার্মানিতে জ্বালানি মূল্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে দৈনিক গড় পেট্রোলের (E10) দাম রেকর্ড ২ দশমিক ২৮৬ ইউরোতে পৌঁছায়।
আগামী রোববার বার্লিন ও মেকলেনবার্গ–ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ায় আঞ্চলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি এসব নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেকলেনবার্গ–ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়ার মুখ্যমন্ত্রী মানুয়েলা শভেসিগ অভিযোগ করেছেন, জ্বালানির দাম লাগামহীনভাবে বাড়লেও কেন্দ্রীয় সরকার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি লুক্সেমবার্গের মতো মূল্যসীমা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল ও পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস। তাদের মতে, এই করছাড় জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে না এবং এর বড় অংশ তেল কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফায় চলে যেতে পারে।
গ্রিনপিস এক বিবৃতিতে বলেছে, “এটি লক্ষ্যভিত্তিক কোনো পদক্ষেপ নয়, এটি জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর এবং এর বড় অংশ তেল কোম্পানির লাভে পরিণত হয়।”
এর আগে চলতি বছরের মে থেকে জুন পর্যন্ত জ্বালানি কর কমিয়ে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম সাময়িকভাবে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট কমিয়েছিল জার্মান সরকার। তখন ওই ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর দাবিও জোরালোভাবে উঠেছিল।
সূত্র: রয়টার্স

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত