
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। ভিউ, লাইক ও অর্থ উপার্জনের জন্য অন্যকে অপমান করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, কারও সম্মানহানি করে কনটেন্ট তৈরি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন লেখেন, এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি এবং তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়, বরং অপরাধ।
একই ধরনের কনটেন্ট যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেন, তখন তা আর শুধু ব্যক্তিগত অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এটি বড় সামাজিক সমস্যার রূপ নেয় বলে মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।
মেহজাবীন লেখেন, ‘কারণ কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে, তাকে আমাদের পরিবারের সদস্য হতে হবে কেন?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ, লাইক, শেয়ার ও ট্রেন্ডিংয়ে থাকার প্রতিযোগিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মেহজাবীন স্বীকার করেন, অনেকের কাছে কনটেন্ট তৈরি এখন জীবিকা নির্বাহের একটি উপায়। তবে সেই বাস্তবতার আড়ালে অন্যের অপমানকে অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার বানানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অভিনেত্রীর প্রশ্ন, ‘কবে থেকে অন্য একজন মানুষের অপমান আর অসম্মান আমাদের উপার্জনের মাধ্যম হয়ে উঠল?’
তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা কিংবা অর্থের আশায় কাউকে অপদস্থ করার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কারও পরিচয় ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
মেহজাবীন আরও বলেন, এ সমস্যা এখন শুধু নারী কিংবা পুরুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভিউ ও এনগেজমেন্ট বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় যে কেউ এমন ক্ষতিকর কনটেন্টের শিকার হতে পারেন। আবার এসব কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়তে পারেন অনেকে।
তবে তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় শুধু কনটেন্ট নির্মাতারা নন, বরং সেই অসংখ্য মানুষ, যাঁরা স্বেচ্ছায় এসব কনটেন্ট শেয়ার করেন, আলোচনা করেন এবং আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
পোস্টের শেষে শেয়ারকারীদের নিজেদের বিবেক নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়ে মেহজাবীন লেখেন, ‘একজন অপরাধীর অপরাধে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দেবেন কি না, ভেবে দেখতে পারেন।’
যেভাবে ছড়ায় ডিপফেক ভিডিও
উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ হ্যাক হওয়ার পর সেখানে প্রকাশিত মেহজাবীনের একটি ডিপফেক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি পেজ হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে। তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত