
ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে থাকবেন দুই নেতা। তবে সম্ভাব্য এই বৈঠকের মধ্যেই নতুন করে মার্কিন হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, তিনি ‘সম্ভবত’ এমন বৈঠকে আগ্রহী।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে তেহরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ফের শুরুর উদ্যোগে কাতার ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারিও জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে দোহার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তিনি এখনো ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে’ রয়েছেন। তাঁর সামনে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো, সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো একাধিক বিকল্প রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও স্বার্থে ‘ব্যথাদায়ক’ পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি বাহিনী।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখনো কোনো বৈঠক বা চুক্তি নিশ্চিত হয়নি। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আলোচনায় বসার শর্ত নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে। ফলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সম্ভাব্য একটি সুযোগ তৈরি করলেও এর ফলাফল নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: গালফ নিউজ, রয়টার্স, ফক্স নিউজ

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত