
ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যার সমাধান করা কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বড় অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন, সংসদীয় কমিটি, বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিল নিয়ে কথা বলেন চিফ হুইপ।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনটি ৫, ৭ বা ১০ দিনের হতে পারে। প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানো হবে।
চিফ হুইপ বলেন, এবারের অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল রয়েছে।
বাবা-মায়ের সম্পত্তি নিয়ে নতুন উদ্যোগ
সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ।
তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে সাতজন এবং জামায়াত থেকে পাঁচজন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংসদে সক্রিয় বিরোধী দল চান চিফ হুইপ
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদের বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে বিরোধী দল জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরবে। আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধানের পথ বের করার আহ্বান জানান তিনি।
‘বিদ্যুৎকেন্দ্র করতেই দুই বছর লাগে’
সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার জবাবে চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে সময় লাগবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতেই ন্যূনতম দুই বছর সময় লাগে। সেখানে ছয় মাসে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে করা চুক্তিগুলো দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় চাপ পড়েছে।
আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থে এ ধরনের চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
চিফ হুইপ আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত