
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিরাপদ ও মানসম্মত মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগ তৈরি করতে দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও রফতানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার।
সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ খাত পুনর্গঠনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনের শুরু থেকেই গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাটির গুণগত মান পরীক্ষা, নিরাপদ পশুখাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে উৎপাদনকারী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং ভোক্তারা নিরাপদ ও রোগমুক্ত প্রাণিজ খাদ্য পান।
মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তায় ২৪ কোটিরও বেশি টাকার বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন এবং জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।
সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে পরিণত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, খামারিদের আয় বৃদ্ধি, মাংস ও দুধ উৎপাদন বাড়ানো, রফতানি সম্প্রসারণ এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত প্রাণিজ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত