
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বিটকয়েন নিয়ে এল সালভাদরের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
এরই মধ্যে দেশটির ব্যয়সংকোচনমূলক সংস্কার কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৪ কোটি ডলার নতুন অর্থায়নের প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইএমএফ জানায়, এল সালভাদর সরকার নিশ্চিত করেছে—সাম্প্রতিক বিটকয়েন কেনায় সরকারি তহবিল ব্যবহার করা হয়নি। অর্থ এসেছে ব্যক্তিগত অনুদান থেকে।
সরকারের এই নিশ্চয়তার পরই নতুন অর্থ ছাড়ের বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায় আইএমএফ।
চুক্তির আওতায় ৪০ মাস মেয়াদি ঋণ কর্মসূচির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যালোচনা একসঙ্গে করা হবে।
তবে অর্থ ছাড়ের আগে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন এবং নির্ধারিত কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করতে হবে।
বিটকয়েন কেনা নিয়ে বড় শর্ত
প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলের নেতৃত্বে এল সালভাদর ১৪০ কোটি ডলারের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বিটকয়েন ইস্যুটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।
আইএমএফের কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী, দেশটিকে বিটকয়েন নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, নথিভুক্ত অনুদানের বাইরে এল সালভাদরের আর কোনো অতিরিক্ত বিটকয়েন কেনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
অর্থনীতিতেও স্বস্তির খবর
শুধু বিটকয়েন নয়, এল সালভাদরের সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়েও আশাবাদী আইএমএফ।
সংস্থাটির মতে, কয়েক বছর ধীরগতির পর দেশটির অর্থনীতি এখন শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এল সালভাদরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।
বিনিয়োগ, ভোক্তা ব্যয়, প্রবাসী আয়, পর্যটন ও দেশে পুঁজি প্রবাহ এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হবে।
উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রশংসাও করেছে আইএমএফ।
ব্যয়সংকোচনে চাকরি হারানোর অভিযোগ
তবে অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি সরকারি চাকরি হারানোর বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ২০২৪ সাল থেকে এল সালভাদরে প্রায় ১৫ হাজার সরকারি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি আরও বড়। তাদের হিসাবে, ২০১৯ সালে নাইব বুকেলে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ৪৭ হাজার মানুষ।
প্রায় ৬০ লাখ জনসংখ্যার এল সালভাদর বিটকয়েনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় থাকলেও আইএমএফের নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে দেশটির অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এখন নতুন গতি পেতে পারে।
সূত্র: এএফপি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত