
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনের সেই তাগিদও ফুরিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমার বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই, সেই সময় ফুরিয়ে গেছে।’
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির করা হয় দীপু মনিকে। এদিন তার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল।
শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই।’
দীপু মনি আরও বলেন, তার স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ সাত বছর ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তার বাকশক্তিও ছিল না। কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন তিনি।
‘পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি। এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন। আমিও তার যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি,’ বলেন দীপু মনি।
গত ১৮ আগস্ট রাতে তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। স্বামীর শেষ সময়ে পাশে থাকতে না পারার কষ্টের কথা তুলে ধরে দীপু মনি বলেন, ‘শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চার মাস আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন আবেদন করেছিলাম। ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। কিন্তু আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।’
যে কারণে জামিন চেয়েছিলেন
শুনানি শেষে দীপু মনির আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ট্রাইব্যুনালের আইনে এক বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে আসামিকে জামিন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৬ এপ্রিল দীপু মনির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। এর অন্যতম কারণ ছিল তার দীর্ঘদিন অসুস্থ স্বামীকে দেখাশোনা করা। কিন্তু ১৮ আগস্ট তৌফিক নেওয়াজ মারা যাওয়ায় জামিন চাওয়ার মূল কারণটি আর নেই।
আইনজীবী আরও বলেন, হেফাজতের মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে’র ঘটনা নিয়ে, আর বর্তমান মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি সম্পর্কিত। দুটি মামলা আলাদা হওয়ায় প্রত্যেকটিতে পৃথকভাবে জামিন নিতে হয়।
তদন্তে আরও সময় চাইল প্রসিকিউশন
অন্যদিকে প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, ৪৫ আসামির এ মামলায় অধিকাংশের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দেওয়া হয়েছে। ১৩ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলছে।
তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হতাহত ও শহীদের সংখ্যা অনেক এবং ঘটনাস্থল সারা দেশে ছড়িয়ে থাকায় তদন্তে সময় লাগছে। এ কারণে আরও তিন মাস সময় চেয়েছিল প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হওয়া ২৩ আসামির নাম মামলার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদনও মঞ্জুর হয়েছে। ফলে তাদের আর এ মামলায় হাজিরা দিতে হবে না।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল দীপু মনির বক্তব্যে সমবেদনা জানান। তবে আদালত বলেন, তার আবেদনের যৌক্তিকতা থাকলেও জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে জামিন শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত