
ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের গান্দারবাল জেলায় এক নববিবাহিত পোল্ট্রি খামারিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করে শেষ পর্যন্ত নিজেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তার স্ত্রীর সাবেক প্রেমিক।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে ওই খামারির ঠিকানায় পোল্ট্রি ফিডের নমুনার নামে বিপুল পরিমাণ মাদক পাঠিয়েছিলেন শ্রীনগরের জয়নাকোট এলাকার বাসিন্দা তারিক আহমেদ সোফি। শুধু তা-ই নয়, খামারিকে হাতেনাতে ধরিয়ে দিতে কৌশলে পুলিশকেও মাদকের চালান আসার খবর দেওয়া হয়েছিল।
গত ৯ আগস্ট তারিক আহমেদ সোফিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার শুরু চলতি মাসের প্রথম দিকে। জম্মু-কাশ্মির পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, গান্দারবালে বড় একটি মাদকের চালান আসছে। খবরের ভিত্তিতে গান্দারবালের প্রধান ডাকঘরে আসা একটি পার্সেল আটক করে পুলিশ। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পার্সেলটি খুলে চার কেজি কোকেন, ৮০ গ্রাম ক্যানাবিস ও কিছু সাইকোট্রপিক ড্রাগ উদ্ধার করা হয়। পার্সেলটি উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে এসেছিল।
পার্সেলের নির্দিষ্ট প্রাপকের সন্ধান পেয়ে পুলিশ গান্দারবালের ওই পোল্ট্রি খামারির বাড়িতে যায়। কয়েক মাস আগে বিয়ে করা ওই যুবক পুলিশকে জানান, মুরগির খাবারের বিনামূল্যের নমুনা পাওয়ার আশায় তিনি পার্সেলটির অপেক্ষায় ছিলেন। এর ভেতরে মাদক রয়েছে—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
ওই যুবক জানান, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে তাকে পোল্ট্রি ফিডের ফ্রি নমুনা পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। তিনি পুলিশকে প্রেরকের একটি সৌদি আরবের মোবাইল নম্বরও দেন।
তদন্তের সময় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। যুবকটি জানান, চলতি বছরের শুরুতে সৌদি আরবের একটি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে ওই নারীকে বিয়ে না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এরপর পুলিশ তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রহস্যের জট খুলতে শুরু করে। ওই নারী জানান, শ্রীনগরের বাসিন্দা তারিক আহমেদ সোফি ছিলেন তার সাবেক প্রেমিক। তাকে বিয়ে না করে ওই যুবককে বিয়ে করায় প্রতিশোধ নিতে সোফি মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সোফি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনাটি করেছিলেন, যাতে সরাসরি তার নাম সামনে না আসে। এমনকি অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পুলিশের কাছে মাদকের চালান আসার খবরও পৌঁছে দেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সোফি স্বীকার করেছেন, কানপুরে বসবাসকারী তার বন্ধু অ্যারিব তার নির্দেশে পার্সেলটি কুরিয়ার করে পাঠিয়েছিলেন। অ্যারিব কানপুরের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সোফির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (এনডিপিএস) ৮/২০ ও ২১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এখন অ্যারিবের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কানপুর থেকে এত বিপুল পরিমাণ মাদক কীভাবে সংগ্রহ করে পার্সেল করা হয়েছিল এবং অ্যারিব পুরো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতেন কি না, তা তদন্ত করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত