
ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৭৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র মাউন্ট মানটাপের আশপাশে গত কয়েক বছরে ভূমিকম্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭ সালে দেশটির সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পরও ওই এলাকায় একের পর এক ছোট ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটছে। নতুন এক গবেষণায় ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সেখানে ১ হাজার ৩৯৯টি ভূমিকম্প শনাক্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাউন্ট মানটাপ এলাকায় ছয়টি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া। অথচ এর আগে প্রায় ২ হাজার বছর ধরে অঞ্চলটি প্রায় ভূমিকম্পমুক্ত ছিল।
গবেষকদের মতে, পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে ভূমিকম্পের সংখ্যা বাড়তে থাকে না। তবে মাউন্ট মানটাপের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক পরীক্ষার পর ভূমিকম্পের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
ওই পরীক্ষার সময় প্রায় ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের প্রভাবে পাহাড়ের ভূ-গঠনে প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত পরিবর্তন এবং একটি ভূগর্ভস্থ টানেল ধসে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
পরবর্তী সময়ে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলো তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। বেশিরভাগের মাত্রা ছিল ২ থেকে ৩-এর মধ্যে এবং এগুলো অগভীর গভীরতায় সংঘটিত হয়েছে।
পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কিম বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা অত্যন্ত বিরল ছিল। গত প্রায় ২ হাজার বছরের ইতিহাসে এখানে খুব সামান্য ভূকম্পনেরই রেকর্ড পাওয়া যায়।
গবেষকদের ধারণা, ২০১৭ সালের পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর ভূগর্ভস্থ শিলাস্তর আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যেতে পারেনি। এতে অন্তত দুটি পুরোনো ভূ-ফাটল বা ফল্ট পুনরায় সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে।
তাদের মতে, বিস্ফোরণের ফলে পাহাড়ের ভেতরের পুরোনো ফাটলগুলো খুলে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন ফাটলও তৈরি হয়। এসব ফাটলে পানি প্রবেশ করার পর পানির চাপ শিলাস্তরকে সরিয়ে দিতে থাকে। এর ফলেই দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক ছোট ছোট ভূমিকম্প সৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত