
ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত। দিল্লির বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই, চণ্ডীগড়, কলকাতা, পাটনা ও হায়দরাবাদে। আন্দোলন ঘিরে চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। আটক চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী হলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল থেকে পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও তাঁর সহ-আহ্বায়কদের আটক করা হয়। আটক অবস্থায় থানায় অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিল্লির প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ল বিভিন্ন শহরে
দিল্লির ঘটনার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও সংহতি কর্মসূচি পালন করেছেন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিল শুরুর আগেই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানেও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নজরদারি ও আটকের ঘটনা ঘটে। সেখানে এক নারী আন্দোলনকারীকে আটকের সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চেন্নাইয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) ও অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ ফেডারেশনের (এআইওয়াইএফ) কর্মীরা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। চণ্ডীগড়ে আম আদমি পার্টি (আপ) ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
কলকাতার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংহতি মিছিলের ডাক দিয়েছেন। এ ছাড়া পাটনা ও হায়দরাবাদেও ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের আঞ্চলিক দলগুলোও নিন্দা জানিয়েছে।
মুক্তি না দিলে অনশনের হুঁশিয়ারি সোনম ওয়াংচুকের
বিক্ষোভ ঘিরে আটক সবাইকে আগামীকালের মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী এই শিক্ষাবিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বিক্ষোভে ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আগের দিন তিনি একটি বার্তা পোস্ট করেছিলেন। তখন কল্পনাও করেননি যে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একটি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থার’ মধ্যে পড়বে।
লাদাখের এই পরিবেশ আন্দোলনকর্মী বলেন, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এত নেতাকে একসঙ্গে দেখে তিনি খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পেরেছেন, তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আটক সবাইকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আশা প্রকাশ করে সোনম ওয়াংচুক বলেন, আগামীকালের মধ্যে তাঁদের মুক্তি দেওয়া না হলে তিনি অনশন অথবা পদযাত্রা কর্মসূচির কথা বিবেচনা করতে বাধ্য হবেন।
‘যা খুশি করুন, আমরা পিছু হটব না’: মোদিকে রাহুল গান্ধী
দিল্লির বিক্ষোভ ও ধরপাকড়ের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে কড়া বার্তা দিয়েছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘মোদি, আপনি যা খুশি করুন। আমরা পিছু হটব না।’
রাহুল গান্ধী বলেন, ভারতের সংবিধান রক্ষা এবং জনগণের কণ্ঠস্বর সুরক্ষিত রাখতে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এক দশকের বেশি সময় ধরে নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বলেও জানান তিনি।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, মোহন ভাগবত, জ্ঞানেশ কুমার ও অজিত ডোভালের মতো ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে চাপে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁদের ঘিরে ধরছি।’
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে রাহুল গান্ধী আরও বলেন, সরকার চাইলে ১০ হাজার, ২০ হাজার কিংবা ৫০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করতে পারে। সব নেতা ও তরুণকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁরা পিছু হটবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রেপ্তার করুন, সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ধরছি এবং পিছু হটব না।’

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত