
ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত যত বাড়ছে, ততই অস্থির হয়ে উঠছে বিশ্ব জ্বালানি তেলের বাজার। সরবরাহব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংকটের কারণে বাড়ছে তেলের দাম। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। কোথাও পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ সারি, কোথাও জ্বালানি না পেয়ে মোটরসাইকেল ঠেলে নিতে হচ্ছে; আবার কোথাও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন মানুষ।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে বিক্ষোভ হয়েছে পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া ও গুয়াতেমালায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘাতের শুরুতে এর প্রভাবে তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে ওঠে। পরে কিছুটা কমলেও সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতের জেরে বাব আল-মানদেব প্রণালি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
পর্তুগালে রাস্তায় গাড়িচালকেরা
জ্বালানির দাম বাড়ায় গত সপ্তাহে বিক্ষোভে নামেন পর্তুগালের গাড়িচালকেরা। ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।
এতে রাজধানী লিসবনের ‘২৫ দে এপ্রিল’ সেতুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।
সিরিয়ায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির ঘোষণা
জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সিরিয়া সরকার। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ।
গত রোববার ও সোমবার দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালান। কেউ কেউ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আত্মদাহের হুমকিও দিয়েছেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছে সিরিয়া সরকার।
ইন্দোনেশিয়ায় পাম্পে দীর্ঘ সারি
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় তীব্র হয়েছে জ্বালানি সংকট। রাজধানী জাকার্তায় জ্বালানি না পেয়ে অনেককে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি।
সংকট মোকাবিলায় গাড়ির নম্বরপ্লেট জোড় না বিজোড়—তার ভিত্তিতে জ্বালানি দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে সরকার। এর প্রতিবাদে গত সোমবার বিক্ষোভ করেন ট্যাক্সিচালকেরা।
জাভার জোগাকার্তাতেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ফিলিপাইনে জ্বালানির দামে বিপাকে জেলেরা
ফিলিপাইনে জ্বালানির দাম বেড়ে বিপাকে পড়েছেন ম্যানিলা উপসাগরের জেলেরা। ডিজেল ও গ্যাসচালিত নৌকা ব্যবহার করে মাছ ধরেন তারা। কিন্তু বাড়তি জ্বালানি খরচের কারণে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
মৎস্যজীবীদের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ফার্নান্দো হিকাপ বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের ‘দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় সরবরাহ কমছে
শ্রীলঙ্কায় প্রতি মাসে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে সরকার। তবে দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় পেট্রলপাম্পে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সীমিত করতে শুরু করেছে।
পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠনের চেয়ারম্যান কুমারা রাজাপক্ষ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, জ্বালানি বিক্রি করে তারা লোকসান গুনছেন।
গুয়াতেমালায় মিছিল, জ্বলছে গাড়ি
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে গুয়াতেমালার কৃষিখাতেও। কৃষিকাজে ট্রাক্টর চালাতে ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হয় কৃষকদের। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়ও।
সম্প্রতি রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেন পরিবহনশ্রমিক ও আদিবাসী অধিকারকর্মীরা। কয়েক দিন পর রাজধানীর দক্ষিণে ভিয়া নুয়েভা এলাকায় ধারণ করা ভিডিওতে কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু তেলের বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই; জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ গিয়ে পড়ছে পরিবহন, কৃষি, মৎস্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত