
বিশেষ প্রতিবেদক | বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

———————————————–
আজ ৮ই এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশ একডেমী, সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ২০২৫ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী এই কুচকাওয়াজে ৪১তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ২০২৫ ব্যাচের ২০৯ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির, মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ ও বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জি এম আজিজুর রহমান, প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি), বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহী উপস্থিত ছিলেন। সহকারী পুলিশ সুপার শুভ কুমার ঘোষ উক্ত প্যারেডের প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীরা হলেন, ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর জনাব ইজাজ আহম্মেদ হিমেল (পিএ-৪২৬) (Best Cadet & Best Academic), ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর জনাব ওলিউল্লাহ (পিএ-২৪৬) (Best in Field Activities), ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর জনাব শুভ বিশ্বাস (পিএ-২২৪) (Best Shooter) এবং ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর জনাব মোঃ রায়হান (পিএ-৩৫৫) (Best Swimmer)।
আজকের এই বর্ণাঢ্য এ প্যারেড অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদবীর সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিতে এই সমাপনী কুচ অনুষ্ঠিত হয় ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর ভাষণে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্তব্য পালনের জন্য বলেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন- ‘এই দীর্ঘ ও কঠোর প্রশিক্ষণকাল তোমাদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং নৈতিক মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করেছে। তোমাদের সামনে যে পথ উন্মুক্ত হচ্ছে, তা যেমন সম্মানের, তেমনি দায়িত্বপূর্ণ। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে তোমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করা।
তিনি নবীন কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, ‘ তাই সততা,
নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়ে তোমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া তোমাদের নৈতিক কর্তব্য।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ‘বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম এবং জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পুলিশ অফিসারদের দক্ষতা ও
সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সবসময় নিজেকে আধুনিক ও আপডেটেড রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা আজ শুধু একটি চাকরিতে যোগ দিচ্ছো না, বরং একটি মহান সেবামূলক পেশায় আত্মনিয়োগ করছো, যে পেশার মূলমন্ত্র হলো ‘সেবাই ধর্ম’। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের বিপদে সহায়তা করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার মূল্যবোধ ধারণ করেই তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমি আশা করি, তোমরা তোমাদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখবে।’
পরিশেষে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ সার্বিক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০৯ জন ক্যাডেট এসআই দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত