
সফিউর রহমান সফিক | মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

কানুনগো-সার্ভেয়ারদের দুর্নীতি পর্ব -২
সরকারি চাকুরির আড়ালে ঘুষ- দুর্নীতি অনিয়ম , অপকর্মের মাধ্যমে সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিন তার স্ত্রীর ও নিকট আত্মীয়দের নামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন!
আইনের হাত থেকে বাঁচতে অবৈধ উপার্জিত অর্থে স্ত্রী আত্মীয়-স্বজনের নামে করেছেন ফ্লাট ,বাড়ি, দোকান ও জমি! সরকারি চাকুরির আড়ালে ঘুষ-দুর্নীতি নানান অনিয়ম অপকর্ম করে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয় এর সার্ভেয়ার ও তার স্ত্রী পাহাড় সমান সম্পদের মালিক এমন গুরুত্বের অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে ।
তার মূল অফিস ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হলেও বর্তমানে এই সার্ভেয়ারের সংযুক্ত অফিস গাজীপুর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ তিনি কর্মরত আছেন। এদিকে বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধানে জানা গেছে এই সার্ভেয়ার ঘুষ- দুর্নীতি নানান অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্লাট, দোকান ,নিজ জেলা মানিকগঞ্জে বিভিন্ন মৌজায় বিঘা বিঘা জমি ক্রয় করেছেন । এরসাথে নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক রয়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যালেন্স । তার সর্বসাকুল্য বেতন ২৪ হাজার টাকা অথচ ডেমরা শামসুল হক স্কুল এন্ড কলেজ এলাকায় সম্প্রতি দুইটা আলিশান ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন যাহার বাজার মূল্য তিন কোটি টাকা । ব্যাংকে স্ত্রী ও নিকট আত্মীয়দের নামে রয়েছেন কয়েক কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট । আবার বিভিন্ন ব্যবসায় মোটা অংকের অর্থলগ্নী করেছেন। মানিকগঞ্জ জেলার নিজ এলাকা ও তার আশপাশের মৌজায় কয়েক কোটি টাকার জমি রয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে এই সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ।
এত অল্প সময়ে সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিন কি করে ফ্ল্যাট বাড়ি, দোকান ,বিঘা বিঘা জমি কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স সহ পাহাড় সমান সম্পদের মালিক হলো এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন কে তদন্ত-পূর্বক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল । বর্তমানে গাজীপুর জেলা সদরের সহকারি কমিশনার ভূমি অফিসে থেকে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। এই দালাল চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামজারি, খাজনা , দাখিলা, ভুল সংশোধন সহ জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের ভূমি সেবা প্রত্যাশীরা ভূমি অফিসে আসলে এই দালাল চক্র সেবা প্রত্যাশীদের তার কাছে নিয়ে আসেন তখন সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিন সেবা প্রত্যাশীদের কাগজপত্রের অজুহাতে ট্যাপে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে দেওয়ার গুরুত্ব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।
এছাড়া সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণীর জমি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভূমিদস্যু জালিয়াত চক্রের নামে মিথ্যা (নোট) প্রতিবেদন দিয়ে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । এই অনৈতিক কাজে তিনি তার বর্তমান কর্মস্থলের সহকারী কমিশনার ( ভূমি) কে ব্যবহার করছে বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মোসলেম উদ্দিন ও তার কয়েকজন সহযোগীর নানান অবৈধ কর্মকান্ডে গাজীপুর সদর (ভূমি) কার্যালয় বর্তমানে ঘুষ- দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে ।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিন গাজীপুরের আগে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলা ও গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি )অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই কর্মস্থলে থাকার সময় তিনি সরকারের জমি অধিগ্রহনকৃত কয়েকটি প্রকল্পের সার্ভেয়ার হিসেবে কাজ করার সময় অনিয়ম, দুর্নীতি মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। গজারিয়া থাকা অবস্থায় বিভিন্ন কোম্পানির ও সরকারি খাস সম্পত্তি নিয়ে তিনি ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য করার কথা সবাই কমবেশি জানেন। গজারিয়া অফিসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তি মালিকানা নামজারি করতে ২০-লাখ ৩০লাখ-৫০লাখ এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কোটি টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন এই সার্ভেয়ার। শুধু তাই নয় তৎকালীন গজারিয়ায় দুর্নীতিবাজ এসিলান্ডের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে গজারিয়া এলাকায় অবৈধ একাধিক বালু মহলে বালুদস্যুদের বালু তোলার সুযোগ করে দিয়ে সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিন ও মামুন শরীফ বালুদস্যুদের নিকট থেকে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। অন্যদিকে আরও জানা গেছে সার্ভেয়ার মোসলেম গজারিয়া থাকাকালীন গজারিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি ) অফিসে বিভিন্ন খাত থেকে যে অবৈধ টাকা আসত সেই টাকার ক্যাশিয়ার এর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
এক সময় গজারিয়ার তৎকালীন দুর্নীতিবাজ এসিলান্ড মামুন শরীফ ও সার্ভেয়ার মোসলেউদ্দিন বর্তমানে কর্মরত গাজীপুর সদরে এই দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতি অনিয়ম ফাঁস হলে গজারিয়ার জনগণ সোচ্চার হয়ে মিছিল- মিটিং ও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গজারিয়া তখন ঊর্ধ্বতন মহল মামুন শরীফ কে প্রত্যাহার করে ওএসডি করেন ।ঐ সময় মোসলেম উদ্দিন ও তার কয়েকজন সহযোগী তড়িঘরি করে বদলির আদেশ নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্টেশনে চলে যায়।
সার্ভেয়ার মোসলেম উদ্দিন ঘুষ-দুর্নীতি নানান অনিয়ম এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ও নামে বেনাম তার বিপুল সম্পদ রয়েছে এই বিষয়ে জানতে তার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি এই বিষয়ে নিউজ না করে তার সাথে কথা বলার অনুরোধ করেন। এর সাথে বলেন আমি কোন দুর্নীতির সাথে জড়িত নই। শ্রীনগর ও গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) অফিসে থাকা অবস্থায় অন্যান্যরা অনিয়ম-অপকর্ম করলে তার দোষ আমার উপরে পড়েছে বলে তিনি এ কথা জানান এই বলে তিনি ফোন রেখে দেন।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত