
জেলা প্রতিনিধি | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারের কাছে পৌঁছায়নি কোনো খবর। ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলা তো দূরের কথা, তাঁর মৃত্যুর খবরও জানতে পারেননি মা-বাবা। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২২ বছর বয়সী তরুণ নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ভাতিজার মৃত্যুর খবর সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাঁর ফুফু আবেদা বেগম।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানা গেছে। একই ঘটনায় সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
নজরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের একটি কৃষক পরিবারের বড় সন্তান। পরিবারের অভাব দূর করার আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তবে সৌদি আরবে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদ থেকে সুইটি আক্তারসহ নজরুলকে অনৈতিক কাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর রিয়াদ ও মক্কার কারাগারে তিন বছর তিন মাস বন্দি ছিলেন তিনি।
ছেলের ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন মা
নজরুলের মা রহিমা বেগম জানান, কারাগারে থেকেও প্রতি রোববার নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন তাঁর ছেলে। কিন্তু গত সপ্তাহে আর ফোন আসেনি। ছেলের ফোনের অপেক্ষায় থাকা পরিবার পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারে।
এ ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছিরও। অসুস্থ শরীরে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে, আমি জানি না। একমাত্র আল্লাহই জানেন। কিন্তু কেন আমাদের একবার জানতেও দেওয়া হলো না?”
পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
ভাতিজার শোকে ফুফুর মৃত্যু
নজরুলের মৃত্যুর খবরের ধাক্কা সামলাতে পারেনি পরিবার। ভাতিজার মৃত্যুর খবর শোনার পর বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর আপন ফুফু আবেদা বেগম।
চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় নজরুলকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারি আর ফুফুর আকস্মিক মৃত্যুতে বিরামপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
মরদেহ দেশে ফেরানোর দাবি
নজরুলের মরদেহ দ্রুত রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী। শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখে তাঁকে নিজ গ্রামের মাটিতে দাফন করতে চান শোকাহত মা-বাবা।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত