
ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ভারতীয় প্রযুক্তি খাতের হাজারো পেশাজীবী। টাটা, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো শীর্ষস্থানীয় আটটি আইটি প্রতিষ্ঠানের পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন (পার্ম) প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কগনিজেন্ট, এইচসিএল, অ্যাডোবি ও ক্যাপজেমিনির মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও।
মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষার যুক্তিতে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত হাজারো ভারতীয় প্রযুক্তিবিদের ওপর। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।
নতুন আবেদন বন্ধ, ঝুলে যেতে পারে পুরোনো আবেদনও
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠান নতুন করে পার্ম আবেদন জমা দিতে পারবে না। একই সঙ্গে আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াও স্থগিত থাকবে।
পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম হলো নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ ব্যবস্থায় মার্কিন শ্রম বিভাগ যাচাই করে দেখে, সংশ্লিষ্ট পদে উপযুক্ত মার্কিন কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি বা চাকরির সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না।
এইচ-১বি ভিসা থাকলেও বাড়বে অনিশ্চয়তা
পার্ম প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিদ্যমান এইচ-১বি ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে গ্রিন কার্ডের আবেদন আটকে গেলে তাঁদের দীর্ঘ সময় অস্থায়ী ভিসার ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হতে পারে।
এর ফলে কর্মীদের চাকরি, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে বিলম্ব হলে ভিসাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার মুখেও পড়তে পারেন তাঁরা।
কেন কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন?
মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান রক্ষাকে এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিযোগ, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো পার্ম ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। এতে স্থানীয় মার্কিন নাগরিকেরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি তাঁর।
মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে ভ্যান্স মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষ প্রযুক্তিবিদ নিয়োগে চাপে পড়তে পারে কোম্পানিগুলো
পার্ম প্রক্রিয়া স্থগিত থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার থেকে দক্ষ প্রযুক্তিবিদ আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও অনেক বিদেশি পেশাজীবীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে যোগ্যতা ও প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কিছু কর্মী ইবি-১এ বা ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার (এনআইডব্লিউ)-এর মতো বিকল্প অভিবাসনপথ বিবেচনা করতে পারেন। তবে এসব ব্যবস্থায় আবেদন করতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়; এগুলো সবার জন্য প্রযোজ্য নয়।
এর আগে নতুন এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে এককালীন এক লাখ ডলার ফি আরোপের মার্কিন উদ্যোগ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পার্ম প্রক্রিয়া স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের নিয়োগনীতি এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত