
সফিউর রহমান সফিক | বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ভূমি সংস্কার বোর্ড ও বিভাগীয় কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ
———————————————
ঘুষ-দুর্নীতি অনিয়ম করে বিপুল সম্পদের মালিক ?
দুদক’এর অনুসন্ধানের দাবি বিভিন্ন মহলের
ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এল এ) শাখায় বহুল আলোচিত সার্ভেয়ার থেকে কানুনগো পদে পদোন্নতি পাওয়া মোহাম্মদ চুন্নু মিয়ার বিরুদ্ধে পুনরায় সিন্ডিকেট গঠন ও দুর্নীতির জাল বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মকর্তা পূর্বে ঢাকা জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন এল এ শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও নানান দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে উঠে তার বিরুদ্ধে । ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরকারের পরিবর্তন পর চুন্নু মিয়া তাদের দুর্নীতি ধামা চাপা দিতে বদলির আদেশ নিয়ে অন্যত্র চলে যায়।
সম্প্রতি কানুনগো পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি আবারো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা -৩ (এল এ-৩)-এ যোগদানের পর কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে ঢাকা জেলা এল এ শাখায় কানুনগো চুন্নু মিয়ার পুনরাগমন ও দুর্নীতির সিন্ডিকেট দলীয় প্রভাব ও বিতর্কিত পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ চুন্নু মিয়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জেলা প্রশাসনের এল এ শাখায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে নানান অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে । পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি সার্ভেয়ার থেকে কানুনগো পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন মোটা অংকের বিনিময়ে।
পূর্বের কর্মস্থলে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের পাহাড় ঢাকা জেলা প্রশাসনের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা এল এ শাখা -২ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সার্ভেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগ ওঠার পর ওই সবাই দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেন। ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ এল এ কেসের ভুয়া মালিকানা সাজিয়ে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ফাইল আটকে রেখে কোটি কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ নামমাত্র বেতনের একজন কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা ও এর আশেপাশে তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, জমি এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও অবৈধ সম্পদের সন্ধান মিলেছে ।
ঢাকার বনশ্রী এলাকায় রয়েছে তার একাধিক ফ্লাট, রাজধানীর মীর হাজারীবাগ খাল পাড় এলাকায় কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বংশাল সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তার কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য প্রমাণের নথি পাওয়া গেছে । এদিকে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন। এল এ -৩ শাখায় চুন্নু মিয়া পূর্বের কায়দায় সিন্ডিকেটের জাল বিস্তার করে কানুনগো হিসেবে নতুনভাবে ভূমি অধিগ্রহণ শাখা- ৩-এ যোগদানের পর তিনি তার পুরনো দালাল চক্র ও দুর্নীতিবাজ সহযোগীদের নিয়ে পুনরায় শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
মেগা প্রকল্পগুলোর (যেমন ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট বা এম আরটি লাইন প্রকল্প), এলিভেটেড সহ পূর্বের চলমান ও বর্তমান বিভিন্ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো ক্ষতিপূরণের চেক ছাড় করার ক্ষেত্রে তিনি নতুন করে দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছেন অনুসন্ধানে জানা গেছে। নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ বা ঘুষের টাকা ছাড়া কোনো ফাইল ছাড় না করার কারণে সাধারণ ভূমি মালিকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে সুশাসনের স্বার্থে জরুরি সুপারিশমালার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে কানুনগো মোহাম্মদ চুন্নু মিয়ার বিগত ১০ বছরের আমলনামা ও অবৈধ সম্পদের খোঁজে ভূমি মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন । তাই এল এ শাখায় কাজের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সংবেদনশীল এই শাখা থেকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার বা ওএসডি (OSD) করা জরুরি। তাই এই দুর্নীতিবাজ কে ফ্যাসিস্টের দোসরকে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির প্রমাণ সাপেক্ষে সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তার পদোন্নতি বাতিলসহ কঠোর শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
কানুনগো চুন্নু মিয়ার ঘুষ দুর্নীতি অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে অবশেষে তাকে তাকে পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সঠিক নয়। অবৈধ সম্পদের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে ব্যবসার গুলোর কথা উঠেছে সেটা তার বাবার । তার নয় বলে তিনি জানান। তবে ফ্লাট অবৈধ সম্পদের বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দেননি।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত