
সফিউর রহমান সফিক | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ঘুষ কেলেঙ্কারি ও নানান অনিয়মের জন্য জণরোষানলে পড়ে গণপিটুনির শিকার সেই বিতর্কিত সার্ভেয়ার বর্তমানে কানুনগো হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে বিপুল অর্থ খরচ করে টাঙ্গাইল থেকে এলেন ঢাকা ভূমি অধিগ্রহণ শাখায়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় যোগদান করে রফিকুল ইসলাম একটি সিন্ডিকেট করে ভূমি অধিগ্রহণ করা বিভিন্ন মৌজার জমির ক্ষতিপূরনের টাকা ছাড় করতে ব্যাপক অনিয়ম এর মাধ্যমে ধরাকে সরা করছে। এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । ক্ষতিপূরণের ফাইলছাড় করাতে ৫% থেকে ২৫ পার্সেন্ট পর্যন্ত ঘুষ কমিশন গ্রহণ করার অভিযোগ এই কানুনগোর বিরুদ্ধে । এদিকে অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্র জানা গেছে রফিকুল ইসলাম ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা। রফিকুল ইসলাম ঢাকা এল এ শাখায় যোগদান করেই সিন্ডিকেট করে চলছে তার পুরানো কাজকারবার রফিকুল ইসলামের ঘুষ দুর্নীতি নানান অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর্ব -১
ঢাকা ও তার আশপাশে জেলায় বছরের পর বছর চাকুরি করে অবৈধ অর্থের উৎসর মোহ ছাড়তে না পেরে
বিভিন্ন মাধ্যমে বিপুল অর্থ খরচ করে তিনি এলেন ঢাকা এল এ শাখায়। বলছি কানুনগো মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের কথা এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে
ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এল এ) শাখা-৩ এর কানুনগো মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ভূমি সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি এবং জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করানোর নামে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে ৫% থেকে ১৫% ঘুষ কমিশনের মাধ্যমে প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকার বিল ছাড় করেছেন এই কানুনগো রফিকুল ইসলাম বিনিময়ে তার পকেটে ঢুকেছে কয়েক কোটি টাকা অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এখানেই শেষ নয় তিনি কয়েকজন কানুনগো নিয়ে ঢাকা এল এ -৩ শাখায় একটি সিন্ডিকেট করে। ঢাকা এল এ শাখা কে ঘুষের রাজ্যে পরিণত করেছেন। এদিকে আরো জানা গেছে গাজীপুর থাকাকালীন তার ঘুষ দুর্নীতি নানান অনিয়মের কারণে ভূমি সেবা নিতে আসা এলাকার সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে রুখে দাঁড়ায় এবং সাধারণ জনগণ ঘুষের টাকাসহ তাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দেয় বলে অনুসন্ধান কালে গাজীপুরের একাধিক লোকের সাথে আলাপকালে একথা জানা গেছে। তবে রফিকুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়ে বদলির আদেশ দিয়ে ঢাকা এল এ শাখায় যোগদান করে তার সেই পুরানো অভ্যাস এখনো বদলাতে পারেনি। জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করাতে বিভিন্ন লোকজনকে পকেট কেটে হয়রানি করছে। গত এক মাসে এল এ -৩ শাখা থেকে কেস নাম্বার ৭/২৪-২৫ বাড্ডা মৌজার প্রায়(৫০)পঞ্চাশ কোটি টাকা ৫ থেকে ১৫% ঘুষ কমিশনে নিয়ে ছাড় করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। উদ্যোগ গ্রহণের কিছু জমির কাগজপত্রে ও অবকাঠাম ো বিলে অসঙ্গতি থাকার পরও বিশেষ কারিশমা বিল ছাড়ার ব্যবস্থা করেন উক্ত দুর্নীতিতে সিদ্ধ হস্ত কানুনগো রফিক। আবার উক্ত এল এ কেইস এর জমির কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও জমির ক্ষতিপূরণ নিতে আসা লোকদের নানান টেপে ফেলে এই টাকা আদায় করেন কানুনগো রফিকুল ইসলাম সিন্ডিকেট। জমির কাগজপত্র সঠিক বা ভুল বিষয় নয় এই কানুনগোর কাছে মুখ্য বিষয় হলো ঘুষ কমিশন। ঘুষ কমিশন ঠিক সব ঠিক।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতীত অনিয়ম
অনুসন্ধানে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মোঃ রফিকুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা এল এ শাখা-৩ এ কর্মরত থাকলেও এর আগে তিনি দীর্ঘদিন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কালিয়াকৈর কর্মরত ছিলেন। গাজীপুরে থাকাকালীন বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত ফাইল ছাড়করণ, নামজারি ও বিবিধ কেসের অজুহাতে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। এরপর গাজীপুর থেকে চলে যায় টাঙ্গাইলে । টাঙ্গাইল গিয়েও ক্ষান্ত হয়নি তার দুর্নীতি অনিয়ম সরকারি পদের অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এই অবৈধ অর্থে নিজের এবং নিকটাত্মীয়দের নামে বেনামে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন যা তার বৈধ আয়ের উৎসের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে ঘুরেফিরে বছরের পর বছর ঢাকা ও তার আশপাশের জেলাতে কর্মরত রয়েছেন কানুনগো রফিকুল ইসলাম । লেবাসধারী এই কানুনগোর দুর্নীতি নানান অনিয়মের চিত্র দেখলে আপনার চোখ কপালে উঠবে । আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ঘুষ দুর্নীতি নানান অনিয়মের করে ধারাকে সরা করে চলছে প্রতিনিয়ত এই ভূমি কর্মকর্তা কানুনগো রফিকুল ইসলাম ।
ঢাকা এল এ শাখা-৩ এ বর্তমান ‘কমিশন বাণিজ্য’
গাজীপুর থেকে বদলি হয়ে সম্প্রতি ঢাকা এল এ শাখা-৩ এ যোগদানের পর মোঃ রফিকুল ইসলাম পুনরায় তার পুরনো সিন্ডিকেট সক্রিয় করেছেন। বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের চেক বা টাকা ছাড় করানোর ক্ষেত্রে তিনি ওপেন ‘কমিশন বাণিজ্য’ শুরু করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রতিটি ফাইলের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করাতে তিনি মোট অঙ্কের ৫ থেকে ১০ শতাংশ (5% to 10%) পর্যন্ত কমিশন বা ঘুষ দাবি করছেন। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ৫% থেকে ২৫ পার্সেন্ট নেন। এই কমিশন না দিলে ফাইল আটকে রাখা, ফাইলে নানা ধরনের ত্রুটি ধরা এবং বছরের পর বছর গ্রাহকদের ঘোরানোর মতো হয়রানির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি তিন মাসই বাজিমাত করেছেন ঢাকা এল এ শাখায় ।
অবৈধ সম্পদের বিবরণ ও জনমনে ক্ষোভ
দীর্ঘদিনের এই দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কানুনগো মোঃ রফিকুল ইসলাম ইতোমধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। রাজধানী ঢাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স। তার এই লাগামহীন দুর্নীতির কারণে সরকারের ভূমি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রত্যয় মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সাধারণ জমির মালিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা বুঝে পেতে এই কর্মকর্তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য ও সুপারিশ
ঢাকা এল এ শাখার মত স্পর্শকাতর সরকারি দপ্তরে একজন কর্মকর্তার দীর্ঘদিন এ ধরনের দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়া প্রশাসনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সেহেতু ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ এবং সচেতন মহল এই দুর্নীতিবাজ কানুনগোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এর সাথে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সঠিক অনুসন্ধান এবং আয়ের উৎসের তদন্ত করা প্রয়োজন। এর সাথে
ঢাকা এল এ শাখা-৩ এর ক্ষতিপূরণ ফাইলগুলোর নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে সহজ ও ডিজিটালাইজড করা দরকার, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা কর্মকর্তা গ্রাহককে জিম্মি করতে না পারেন।
বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। এদিকে কানুনগো মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভূমি সেবা নামে নানান অনিয়ম দুর্নীতি সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ থেকে হয়েছেন বটগাছ তার বিরুদ্ধে উঠা এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন দিলে তিনি এই বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি নয় বলে ফোন রেখে দেন। তবে ঢাকা এল এ -৩ শাখার জনৈক এক কানুনগোর সাথে আলাপকালে তিনি জানান কানুনগো রফিকুল ইসলাম অতি দুরন্ত লোক ধড়ি মাছ না ছুঁই পানি দেখালেও তার দুর্নীতির কারণে ঢাকা এল এ শাখা এখন নানা কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তার কারণে পুরানো গাজীপুরের জনরোষ ঢাকা এ এল শাখায় ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন ঔ কানুনগো ।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত