
ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৩০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে মাঝ-আকাশে ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিমানের প্রধান পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন বলে দুই দফা ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
গত ৪ আগস্ট ১৩৭ যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য নিয়ে থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করে এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই-২৩৭৯’ ফ্লাইট। ক্রুজিং অবস্থায় এয়ারবাস এ৩২০নিও বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে বিমানের ভেতরে তীব্র ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সিটবেল্ট বাঁধা না থাকায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আসন থেকে ছিটকে পড়েন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজন ক্রু সদস্যের টেলবোন ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার সময় প্রধান পাইলট ককপিটের নির্ধারিত আসনে ছিলেন না। তখন সহ-পাইলট বিমানটি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।
দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়ম অনুযায়ী দুই পাইলটের ডোপ টেস্ট করা হয়। প্রথম পরীক্ষায় প্রধান পাইলটের শরীরে গাঁজার সক্রিয় উপাদান শনাক্ত হয়। পরে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফার পরীক্ষাতেও একই ফল পাওয়া যায়।
ঘটনার পর দুই পাইলটকেই সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। তবে পাইলটের গাঁজা সেবনের সঙ্গে বিমানটি হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিমানটি কেন হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেল, তা খতিয়ে দেখতে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি, হাইড্রোলিক সমস্যা, পরিচালনাগত ত্রুটি কিংবা মানবিক ভুল—সব সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ফ্লাইটের রেকর্ড করা ডেটা, বিমান রক্ষণাবেক্ষণের নথি, উড্ডয়ন-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোই তদন্তের মূল লক্ষ্য।
এদিকে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিদায়ী সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু বলেছেন, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নিরাপত্তার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা কোনো এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকেই আপস বরদাশত করা হবে না।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত