
ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আরও কমেছে। নতুন এক জনমত জরিপে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিনি। একই সঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষের ধারণা, প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। এমনকি তাঁর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সমর্থকদের একাংশও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদকে নিজের সম্পদ বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। দলটির ৩৪ শতাংশ সমর্থক মনে করেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থে প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ হার বেড়েছে ১২ শতাংশ পয়েন্ট।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে প্রকাশিত এ জরিপ ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। নির্বাচনে দলটির অবস্থান যখন চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সফর করছেন প্রেসিডেন্ট।
আর্থিক দুরবস্থায় ক্ষুব্ধ প্রায় অর্ধেক মার্কিনি
ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ শতাংশ মার্কিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁদের আর্থিক অবস্থা আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৬ সাল থেকে পরিচালিত এ ধারার জরিপে কোনো প্রেসিডেন্টের আমলে নিজেদের আর্থিক অবস্থার অবনতির কথা বলা মানুষের হার এটিই সর্বোচ্চ।
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিনিদের অসন্তোষ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জরিপের ফল বলছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আর্থিক অবস্থার উন্নতি দেখতে পাননি; বরং পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও আস্থার সংকট
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ট্রাম্পের অঙ্গীকার নিয়েও ব্যাপক সংশয় দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর প্রবেশ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধ তৈরি হয়। পরে এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। জরিপে উঠে আসা নেতিবাচক মনোভাব ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা নিয়েও সন্দেহ
যুক্তরাষ্ট্রে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের অঙ্গীকার নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ জরিপে অংশগ্রহণকারী। জরিপ অনুযায়ী, ৬১ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন রক্ষায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হতে পারে। ফলে ট্রাম্পের জনসমর্থন, অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের মনোভাব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষায় তাঁর ভূমিকা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে জনমত জরিপের ফলই নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করে না। ভোটার উপস্থিতি, নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাসহ বিভিন্ন বিষয় নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত