
সফিউর রহমান সফিক | বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এল এ শাখার কানুনগো জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজন কানুনগো ও সার্ভেয়ারকে ভূমি সংস্কার বোর্ড গত ৮ জুন ২০২৬ জনস্বার্থে সিলেট বিভাগ ও বিভিন্ন জেলায় বদলি আদেশ জারি করেন । এই বদলির আদেশ জারির পর কানুনগো জাহাঙ্গীর আলমসহ তার অনুসারীরা বিভিন্ন মহলের দরজা শুরু করেছে দৌড়-ঝাপ । এই বদলির আদেশ বাতিল করে তাদের বর্তমান কর্মস্থল ঢাকা এল এ শাখায় বহাল তবিয়তে থাকার জন্য একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া কানুনগো জাহাঙ্গীর আলম সাবেক ফ্যাসিস্টৈর একজন সক্রিয় দোসর হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত । বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় সার্ভেয়ার থাকাকালীন তৎকালীন ঢাকার বিতর্কিত ডিসি শহিদুল ইসলাম (শেখ মুজিব হত্যা মামলার রায় দেয়া জজ’ গোলাম রসুলের মেয়ের জামাই) এর অত্যন্ত কাছের লোক হওয়ার সুবাদে তার দোহাই দিয়ে এল এ শাখায় একক আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতি নানান অপকর্ম ,অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।
ঢাকা এল এ শাখায় ঘুষ-দুর্নীতি নানার অনিয়ম করে জাহাঙ্গীর আলম কোটি কোটি টাকা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় রয়েছে তার একাধিক ফ্লাট , বাড়ি -গাড়ি দোকানপাট , জমি ও বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বে-নামে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স অনুসন্ধানে তা জানা গেছে । ঔ সময় ডিসি শহিদুল ইসলাম এর ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই জাহাঙ্গীর আলম। শুধু তাই নয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার সার্ভেয়ার, কানুনগো সহ অন্যান্য কর্মচারীদের জামায়াত-বিএনপি তকমা দিয়ে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে পানিশমেন্ট বদলি , নানার হয়রানি, ও মানসিক, শারীরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ছিল এই সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। শুধু তাই কদিন পরপর সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলম এল এ শাখার সার্ভেয়ার-কানুনগোদের নিয়ে দলবেঁধে শেখ মুজিবের মাজার জিয়ারতে গোপালগঞ্জের টঙ্গীপাড়ায় যেতেন আনন্দ উৎসব করে । আওয়ামী লীগ সরকারের লাসপেন্সার শহীদুল ইসলাম ঢাকার ডিসি থাকার পূর্বে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওই সময় টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এল এ শাখায় সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম । শহিদুল ইসলাম টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি হয়ে ঢাকায় যোগদান করার পর সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলমসহ তার কয়েকজন সহযোগীকে বদলি করে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিসি শহিদুল ইসলাম ।
এরপরে চক্রটি মিলেমিশে আতাত করে জমি অধিগ্রহণ প্রকল্প সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে তৎকালীন ডিসি ও জাহাঙ্গীর আলম চক্র ।
৫ আগস্ট এর পর এই কুলাঙ্গার বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যায় । আরো জানা যায় ঢাকা বিভাগ কমিশনার কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় তাকে ঢাকার বাহিরে বদলি করা হলে বিশেষ কারিশমায় সেই বদলির আদেশ বাতিল করে ঢাকায় থেকে যান জাহাঙ্গীর । তার চাকুরি জীবনের উল্লেখ সময় পার করেছেন ঢাকা ও তার আশেপাশে। এরই মধ্যে মোটা অংকের টাকা খরচ করে পদোন্নতি নিয়ে পুনরায় ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এল এ শাখায় কানুনগো হিসেবে যোগদান করেন তিনি ।
একাধিক সূত্রে অনুসন্ধানে জানা গেছে সম্প্রতি সার্ভেয়ার থেকে যে কানুনগো পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে সেই পদোন্নতি নিয়ে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । সার্ভেয়ারদের কাছ থেকে মন্ত্রণালয়ের কথা বলে কয়েক কোটি টাকা জাহাঙ্গীর আলম উত্তোলন করে । এই পদোন্নতি নিয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে । জাহাঙ্গীর আলমের নানান অপকর্মের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে ফোন দিলে এই বিষয়ে তিনি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং তিনি তার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান । সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলমের নানান দুর্নীতি অনিয়ম অপকর্মের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল ।
কিছুদিন আগে ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একাধিক সার্ভেয়ার -কানুনগো বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হলেও তারা বদলির কর্মস্থলে যোগদান না করে বিভিন্ন মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ঢাকা এল এ শাখায় থাকছেন বিভিন্ন অজুহাতে । এদিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ যথাযথ সময় না মানায় বিভিন্ন মহল মনে করছেন এতে প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় তার অধীনস্থ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বদলির ক্ষেত্রে এই চিত্র দেখা গেছে।
বর্তমানেও বদলিকৃত এই কানুনগো- সার্ভেয়াররা তাদের বদলিকৃত নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে বদলির আদেশ ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে জোর তদবির শুরু করেছে বিশ্বস্ত সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে । তবে কি ঢাকা এল এ শাখা সার্ভেয়ার- কানুনগোদের মধুর খনি ? । এই বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন দিও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর প্রতি ভূমি সংস্কার বোর্ড , ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে নজর দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত