
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট | ১৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের কোরবানির পশুর হাট। আর সেই হাটের আগেই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিশাল আকৃতির এক শাহীওয়াল জাতের ষাঁড়। ১৬ মণ ওজনের এই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘রাজা বাহাদুর’। তিন বছর ধরে সন্তানের মতো লালন-পালন করা এ ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের খামারি কামাল গাজীর খামারে জন্ম নেওয়া ‘রাজা বাহাদুর’ এখন এলাকাজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন শুধু এক নজর গরুটিকে দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ দাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
খামার সূত্রে জানা গেছে, বিশাল আকৃতির এ ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় সাত ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কাছাকাছি। গঠন, চলাফেরা ও শক্তিমত্তার কারণে গরুটি সহজেই সবার নজর কাড়ছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, তাদের এলাকায় এত বড় ও সুগঠিত গরু আগে খুব কমই দেখা গেছে।
গরুটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ সাগর বলেন, আমি জীবনে অনেক গরু দেখেছি, কিন্তু এত বিশাল আর রাজকীয় গরু আগে দেখিনি। গরুটার চলাফেরা দেখলেও আলাদা একটা শক্তির ছাপ বোঝা যায়। আশা করি কোরবানির হাটে খুব ভালো দামেই বিক্রি হবে।
খামারি কামাল গাজী জানান, ‘রাজা বাহাদুর’ তার খামারেরই শাহীওয়াল জাতের গাভী থেকে জন্ম নেয়। ছোটবেলা থেকেই গরুটির আচরণ ছিল অন্যরকম। মাঠে ছেড়ে দিলে অন্য গরু, ছাগল কিংবা মহিষকে কাছে ভিড়তে দিত না। একাই পুরো মাঠ দখল করে রাখত। তার এমন আধিপত্যপূর্ণ আচরণের কারণেই এলাকাবাসী মজা করে নাম দেয় ‘রাজা বাহাদুর’। পরে সেই নামেই পরিচিতি পেয়ে যায় গরুটি।
তিনি আরও বলেন, তিন বছর ধরে অনেক যত্ন করে গরুটিকে বড় করেছি। নিজের সন্তানের মতোই দেখাশোনা করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর হরমোন বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছি। এখন পর্যন্ত ৪ লাখ টাকা দাম উঠেছে, তবে আমি ৫ লাখ টাকা আশা করছি।
খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন নিয়মিত গম, ভুট্টা, ভূষি, খৈল ও কাঁচা সবুজ ঘাস খাওয়ানো হয় ‘রাজা বাহাদুর’কে। বিশাল আকৃতির কারণে গরুটির পরিচর্যাতেও রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সার্বক্ষণিক দুইজন কর্মী এর দেখভাল করছেন। গরমের সময় সবসময় ফ্যানের বাতাসে রাখা হয় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
গরুটির দেখভালকারী গাজী মোস্তাফিজ বলেন, রাজা বাহাদুরকে এতদিন ধরে লালন করতে করতে আলাদা একটা মায়া জন্মেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে ওর খোঁজ নিতে হয়। বিক্রি হয়ে যাবে ভাবতেই খারাপ লাগে। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখেই তো এত পরিশ্রম।
তিনি আরও জানান, গরুটি খুব শান্ত স্বভাবের হলেও অপরিচিত কাউকে সহজে কাছে আসতে দেয় না। তাই সবসময় সতর্ক থেকে পরিচর্যা করতে হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ খান বলেন, এ বছর কলাপাড়ার কোরবানির পশুর বাজারে ‘রাজা বাহাদুর’ অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। গরুটির ওজন বাড়াতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর হরমোন বা বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। এটি অন্য খামারিদের জন্যও একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে উপজেলায় ২০ হাজারের বেশি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যারমধ্যে ১২ হাজার গরু সামান্য কিছু মহিষ এবং ৮ হাজার ছাগল ও ভেড়া।

© ২০২৬ দৈনিক নিউজ অব বাংলাদেশ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত